দিনাজপুরে এনসিপির নেতা গ্রেপ্তার
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দিনগত রাতে উপজেলার বাড়েয়া গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চাঁদা তুলতে গেলে স্থানীয়দের হাতে আটক হন তারা। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়।
গ্রেপ্তার হওয়া এনসিপিনেতার নাম এম এ তাফসীর (৩৩)। তিনি দলের জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব এবং বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি উপজেলার ধনতলা (কলেজ রোড) গ্রামে। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন একই উপজেলার বাসিন্দা মঞ্জুরুল আলম (৩৬)।
ঘটনার পর ওই রাতেই ভুক্তভোগী সন্তোষ কুমার রায় (৪০) বাদী হয়ে বোচাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তার দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাড়েয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার রায় ও তার ভাই পরিমল চন্দ্র রায় একই বাড়িতে বসবাস করেন। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মঞ্জুরুল আলমসহ কয়েকজন লোহার পাইপ ও স্টিলের লাঠি হাতে বাড়িতে প্রবেশ করে পরিমলকে খুঁজতে থাকে। এ সময় সন্তোষ কুমার পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের ‘প্রশাসনের লোক’ বলে পরিচয় দেয়।
পরিমলকে বাড়িতে না পেয়ে আসামিরা তার স্ত্রী স্মৃতি রানীর গলা চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখায় এবং ট্রাঙ্কের চাবি দিতে চাপ সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে সবাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সন্তোষ কুমারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তদের কয়েকজন পালিয়ে গেলেও মঞ্জুরুল আলমকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়ার আগে স্থানীয়দের কাছে মঞ্জুরুল আলম দাবি করেন, এনসিপি নেতা এম এ তাফসীরের নির্দেশে তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে তাফসীর ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয় লোকজন তাকেও আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ বিষয়ে এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. শামসুল মুক্তাদির বলেন, তাফসীর জেলা কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও মূলত বোচাগঞ্জ উপজেলায় দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পুলিশ যেহেতু তাকে গ্রেপ্তার করেছে, সেহেতু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তদন্ত কার্যক্রম চালাবে। পাশাপাশি দলীয়ভাবেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, রাতে আমার কাছে সংবাদ আসে—ছদ্মবেশধারী মঞ্জুরুল নামে এক যুবককে চাঁদাবাজির অভিযোগে এলাকাবাসী আটক করেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থলে একজন অফিসার পাঠাই। পরে আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত হই। সে সময় উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলেই তাদের বিচার করতে উদ্যত ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মঞ্জুর ও তাফসীরকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)