অপহরণের তিনদিন পর দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিক উদ্ধার
সুন্দরবনের কেনুয়ার খাল থেকে অপহৃত দুই পর্যটক ও এক রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনী। অপহরণের তিনদিন পর গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন গাজী ফিসারিজ এলাকা থেকে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় দস্যুতা চক্রের সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গত শুক্রবার বিকেলে সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কেনুয়ার খালে ভ্রমণে বের হন রিসোর্ট মালিকসহ মোট ৭ জন। বিকেল ৩টার দিকে বনদস্যু মাসুম বাহিনী তাদের জিম্মি করে এবং পরে দুই পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে আটকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয়। অপহৃতদের মুক্তিপণ হিসেবে ৪০ লাখ টাকা দাবি করে দস্যুরা।
বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হলে তাদের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবনে সাঁড়াশি অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে বনদস্যু মাসুমের সহযোগী কুদ্দুস হাওলাদার, মো. সালাম বক্স ও মেহেদী হাসানকে গোলকানন রিসোর্ট এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে কৈলাশগঞ্জ এলাকা থেকে আটক করা হয় আলম মাতব্বর নামে আরও এক সহযোগীকে। একই দিনে খুলনার রূপসা থানাধীন পালেরহাট এলাকা থেকে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনকালে ডাকাত মাসুমের মা জয়নবী বিবি ও বিকাশ ব্যবসায়ী অয়ন কুন্ডুকে নগদ ৮১ হাজার ৪০০ টাকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে ড্রোন সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে জিম্মিকৃত ২ জন পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় যৌথবাহিনী। তবে এই চক্রের মূল হোতা ডাকাত মাসুম মৃধাকে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি; তাকে ধরতে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
কোস্ট গার্ড জানায়, উদ্ধারকৃত পর্যটকদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং আটককৃতদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা