নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সিল করা হবে : ইসি সানাউল্লাহ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও সীমান্ত সিল করে দেওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ।
আজ মঙ্গলবার (৬ জনুয়ারি) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ইসি সানাউল্লাহ এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক কিছু কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কেউ যদি কোনো অস্ত্র সীমান্তের ওপার থেকে নিয়ে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঢুকিয়ে ফেলে সহজে এটাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। একটা বিষয় বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে হবে—একটা গোষ্ঠী যদি অস্ত্র ব্যবহার করে নাশকতা করতে চায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবহার করলে তাকে ধরা খুব কঠিন।
কোনো রোহিঙ্গার কাছে অস্ত্র থাকলে সেটার দাম বেড়ে যায় এবং সেটা সহজে ব্যবহার করা যায় বলেও মনে করেন ইসি সানাউল্লাহ।
ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের চলাচলে অবশ্যই আমাদের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও বর্ডারকে সিল করে দিতে হবে।’
আঞ্চলিক এবং ভৌগলিক কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষত্বের কথা উল্লেখ করে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘অর্থনৈতিক কার্যক্রমও এটার সঙ্গে রিলেটেড। এটা দিয়ে মূল বাণিজ্য সম্পাদন হয়ে থাকে। সার্বিকভাবে চট্টগ্রামের বিষয়টা লোকাল না, এটা ন্যাশনাল।’
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এ এলাকাকে ব্যবহার করে অস্ত্র ও মাদকের পরিবহণ হয়ে থাকে। যারা কিডন্যাপিংয়ের সঙ্গে জড়িত আছে তারাও এ এলাকাকে ব্যবহার করে থাকে। চট্টগ্রাম এলাকার ভূমিরূপ একটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এখাসে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন কার্যক্রম ঘটিয়ে খুব সহজেই পাহাড়ে লুকিয়ে যেতে এবং মানুষের মধ্যে মিশে যেতে পারে।
চট্টগ্রামে ধর্মীয় এবং সম্প্রদায়গত সংখ্যালঘুদের উল্লেখযোগ্য আবাস রয়েছে উল্লেখ করে ইসি সানাউল্লাহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বলেন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও কিছু ইন্টারেস্টেট গোষ্ঠী বিশেষ করে নির্বাচনের মতো ইভেন্টকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের মধ্যে কিছু ঘটনা ঘটানোর প্রয়াস চালাতে পারে।
নির্বাচনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং দৃঢ়তা রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘ভুল করলে শঙ্কিত হবেন না। যে কাজ করে তারই ভুল হয়। যে কাজ করে না তার ভুল হয় না। ভুল এক জিনিস আর অপরাধ অন্য জিনিস। সচেতনভাবে যে ভুলটা করে সেটা অপরাধ। কাজ করতে গেলে টুকটাক কিছু ভুল হবে, তা হোক।’
প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, তার পরও যদি কোনো ব্যত্যয় ঘটে, কোনো সমস্যা নেই। কাজ করতে গেলে ব্যত্যয় হবে। ব্যত্যয় যেটা হয়েছে সেটা সরাসরি বলে দেবেন। এটা আমাদের ভুল হয়েছে। ঠিক করে নেব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কোনো পক্ষ অবলম্বন না করার নির্দেশনা দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের থেকে বা সরকার কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বা ইনিয়েবিনিয়ে কোনো নির্দেশনা দেবে না। এ ধরনের কোনো নির্দেশনা যদি পান ধরে নিবেন সেটা ভুয়া। সে ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন।
‘প্লিজ এনজয় ইউর ফ্রিডম। আপনারা সৎ একনিষ্টভাবে আইন অনুযায়ী কাজ করবেন। কোন পক্ষের দিকে সামান্যতম হেলবেন না।’
নির্বাচনে কোনো কিছু ঘটবে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এমন প্রত্যাশা না করার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো ঘটনা ছাড়া নির্বাচন হয়েছে—এমটা নজির নেই। ঘটবে… কিন্তু কেউ যেন ঘটাতে উৎসাহিতবোধ না করে। কেউ যদি ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহস দেখায় তাহলে যেন ছাড়া না পায়।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আশা করি ভালো নির্বাচন হবে। দেশের প্রত্যেকটি স্থানে আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের একটা সতর্ক পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আন্তকোন্দলের পরিমাণ কম সেটাও ভালো লক্ষণ।
ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, আমরা দেখতে চাই, নির্বাচন যখন ঘনিয়ে আসবে তখন কোন্দল না বেড়ে সৌহার্দ্য পূর্ণ পরিবেশে এ নির্বাচন করতে পারি এটা জাতির দাবি, সময়ের দাবি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা।

আরিচ আহমেদ শাহ, চট্টগ্রাম