বল্লামুখা বেড়িবাঁধের মাটি লুট, পাউবোর কাছে ব্যাখ্যা চাইলেন জেলা প্রশাসক
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী বল্লামুখা বেড়িবাঁধের বালু ও মাটি লুটের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন জেলা প্রশাসক মনিরা হক। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া সুলতানা ও উপসহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম শাফায়াত আকতার নূর।
এর আগে বেড়িবাঁধের ওপর থেকে প্রকাশ্যে মাটি ও বালু কেটে পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গতকাল বুধবার দুপুরে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুর এলাকায়। ভিডিওতে দেখা যায়, দিনের আলোতে কয়েকজন ব্যক্তি বাঁধের ওপর থেকে মাটি ও বালু কেটে পিকআপে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ- নিজ কালিকাপুর এলাকার কবির আহম্মদ, শাহ আলম, বাসপদুয়ার মিলন ও স্থানীয় ইয়াকুব এই মাটি লুটের সঙ্গে জড়িত।
তবে কবির আহাম্মদ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না এবং বাঁধের মাটি বা বালু কাটার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
বাঁধের ওপর থেকে মাটি ও বালু পরিবহণের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভারতের অংশ থেকে উত্তোলিত বালু আগে বাঁধের ওপর রাখা হয়েছিল, সেখান থেকেই কয়েকদিন ধরে পিকআপে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
এদিকে কালিকাপুর এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে শাহ আলম নামে একজনকে আটক করে উপজেলা পরিষদে নেওয়া হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বেড়িবাঁধের মাটি ও বালু কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম. সাফায়াত আখতার নূর জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসক ব্যাখ্যা চাওয়ার কথা স্বীকার করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বেড়িবাঁধের মাটি কাটার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বন্যা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বল্লামুখা বেড়িবাঁধটি চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করেছে।

জাহিদুল রাজন, ফেনী জেলা (সদর-ছাগলনাইয়া)