সূর্যের দেখা নেই, কুড়িগ্রামে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন স্থবির
মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ার প্রভাবে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও সূর্যের অনুপস্থিতিতে শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ। পাশাপাশি বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।
রাজারহাট আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রাম জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। গত দুই দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে। কুয়াশার কারণে সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। তীব্র ঠান্ডায় কাজে বের হতে না পারায় অনেক দিনমজুরের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে পরিবার নিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছে তাদের।
শীত ও কুয়াশার বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষিক্ষেত্রেও। বোরো ধানের বীজতলায় চারা স্বাভাবিকভাবে বাড়ছে না। অনেক বীজতলার চারা হলুদ ও লালচে রং ধারণ করেছে। চারা রোপণের আগেই এমন পরিস্থিতি কৃষকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, টানা শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে অনেক বীজতলায় ধান গজায়নি। যেগুলো গজিয়েছে, সেগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ছে। এমন অবস্থা আরও কয়েক দিন থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বোরো ধানের বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫৫০ হেক্টর। বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল্লা আল মামুন জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার মধ্যেও বিভিন্ন এলাকার বীজতলা নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কিছু বীজতলা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে, যা পর্যাপ্ত রোদ পেলে স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। কৃষকদের বীজতলার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সার ও পুষ্টি ব্যবহারের পাশাপাশি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে শীতের কারণে গত কয়েক দিন ধরে জেলায় জ্বর, সর্দি-কাশি, হাঁপানি ও ডাইরিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার গুরুতর অবস্থায় কিছু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
শীতের দুর্ভোগ লাঘবে তৎপর রয়েছে ত্রাণ বিভাগ। কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জরুরি সহায়তার জন্য নগদ ৪০ লাখ টাকা মজুত রাখা হয়েছে।
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, তাপমাত্রা আরও নিম্নগামী হয়ে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।

এনামুল হক, কুড়িগ্রাম (সদর-রাজারহাট)