ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে নিজের ছেলেকে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ‘ত্যাজ্যপুত্র’ ঘোষণা করেছেন এক বাবা। নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই এলাকায় ঘটা এই ঘটনাটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ মার্চ নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. আজিজুল হকের মাধ্যমে নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে (অ্যাফিডেভিট নং–৩১০) এই ঘোষণা সম্পন্ন করেন মীর মো. আব্দুল মালেক। তিনি তার ছেলে মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটনকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন। ছোটন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের জেলা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ছোটনের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য দীর্ঘকাল ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে ছোটন কৈশোর থেকেই ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। রাজনৈতিক এই ভিন্ন মেরুকরণের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের সঙ্গে তার তিক্ত সম্পর্ক চলছিল।
অ্যাফিডেভিটে আব্দুল মালেক উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করলেও তার ছেলে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ছেলেকে বারবার বারণ করা সত্ত্বেও তিনি শোনেননি।
আব্দুল মালেক বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ছেলেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে ফেরাতে পারিনি। তাই পরিবারের মঙ্গল ও তার ভবিষ্যৎ কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায় এড়াতে তাকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছি।
এ বিষয়ে সাজেদুর রহমান ছোটন মোবাইল ফোনে জানান, পরিবারের সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রায় তিন বছর ধরেই তিনি আলাদা থাকছেন। তার অভিযোগ, ছাত্রলীগ করার কারণে গত আগস্ট মাসে তার বাবা তাকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। তবে পরিবার সম্পর্ক ছিন্ন করলেও তিনি তার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

ভজন দাস, নেত্রকোনা