ইসিতে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন আরও ১৫ জন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা ২৪ জন প্রার্থীর আপিল নিষ্পত্তি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) তৃতীয় দিনের প্রথমার্ধে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে এ আপিল নিষ্পত্তি করে নির্বাচন কমিশন।
এ সময় ইসির নিষ্পত্তি করা ২৪টি আপিলের মধ্যে ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর ৭ জন প্রার্থীর আপিল না-মঞ্জুর করেছে কমিশন। এ ছাড়া ২ জন প্রার্থীর আপিল আবেদন বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে। এর আগে প্রথম দুইদিনের (শনিবার ও রোববার) শুনানিতে মোট ১১০ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান।
তৃতীয় দিনে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আপিল মঞ্জুর হওয়া ১৫ জন প্রার্থী হলেন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বগুড়া-২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. সেলিম সরকার, ময়মনসিংহ-৪ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. লিয়াকত আলী, গাজীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা-১২ আসনে জনতার দলের ফরিদ আহমেদ, গাজীপুর-২ আসনে গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, গাজীপুর-১ আসনে গণফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, চাঁদপুর-১ আসনে গণফোরামের মোহাম্মদ আজাদ হোসেন, ঢাকা-১৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, মাদারীপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইমরান হাসান, মৌলভীবাজার-২ আসনে এ. জিমিউর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এম এম আহসান হাবিব, খুলনা-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের জি এম রোকনুজ্জামান, চাঁদপুর-১ আসনে গণফোরামের মোহাম্মদ আজাদ হোসেন, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতাউর রহমান আতা।
আপিল শুনানিতে দেখা গেছে, ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী দিনময় রোয়াজার নামে থাকা একটি ক্রেডিট কার্ডে ২২ হাজার ৭০০ টাকার বিল বকেয়া থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে গণধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিনের ৯৭ হাজার ৯৯১ টাকা ঋণ খেলাপি থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৯ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় তার মনোনয়নটি বাতিল করা হয়েছে। ফেনী-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইলের এক শতাংশ সমর্থনকারীর কম হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। নাটোর-২ আসনে এনপিপি প্রার্থী জি এ এ মুবিন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। তার চাকরি থেকে অব্যহতির সময় তিন বছর না হওয়ায় মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাকিলা ফারজানাকে 'নট প্রেসড' সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মানিকগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম আব্দুল মান্নানের ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় যুক্তিতর্কের পর তার মনোনয়ন আপাতত অপেক্ষমান রাখা হয়েছে এবং পাবনা-২ আসনে শুনানি স্থগিত থাকায় গণফোরাম প্রার্থী শেখ নাসির উদ্দিনের মনোনয়ন অপেক্ষমান রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে।
নির্বাচন কমিশনে গত ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। এর আগে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করেন। শনিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। শনিবার ০১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রোববার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল শুনানি হয়। আজ ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর আপিল ও মঙ্গলবার ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সংশোধিত তফসিলের নির্বাচন সময় সূচি অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

নিজস্ব প্রতিবেদক