হাদি হত্যা মামলা : অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি ১৫ জানুয়ারি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অভিযোগপত্র গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য আগামী ১৫ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন।
এ বিষয়ে ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রুকনুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এসআই রুকনুজ্জামান বলেন, আজ আদালতে মামলাটি শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন। সেসময় তিনি অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিনের সময় চান। এরপরে তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। শুনানি শেষে বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
রুকনুজ্জামান আরও বলেন, গত ৬ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ। অভিযোগপত্রে ১৭ জনকে আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রে থাকা আসামিরা হলেন—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। এদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। সে সময় দণ্ডবিধির ৩২৬/৩০৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে হাদির মৃত্যু হলে মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় (হত্যা) রূপান্তরিত হয়।

আদালত প্রতিবেদক