শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালীন নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যাসহ তিনটি অভিযোগ আনা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেওয়ার পাশাপাশি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একইসঙ্গে ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আগামী ২৬ জানুয়ারি হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুনানিতে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি শামীম ওসমান চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজনীতি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড প্রদর্শন করা হয়। এতে দেখা যায়, শামীম ওসমান বলছে, ‘পুলিশ কিছু করতে পারছিল না। সাহায্য চাইছে। আমাকে অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছে। আমি কিন্তু আর অস্ত্র ছাড়া মুভ করতে পারছি না। দৌড়াইয়া পানিতে নামাইছি সবগুলারে। দুইটারে ধরছি, এখন যাচ্ছি সিদ্ধিরগঞ্জে। আর সজল মোল্লা (আওয়ামী লীগের ডেমরা যাত্রাবাড়ির সাবেক এমপি) সাথে আলাপ করছি, বলছি তোমরা আমাকে সাপোর্ট দাও। আমরা চিটাগং রোড খালি করতাছি। আপনি একটু আপাকে অর্থাৎ আপনি একটু নেত্রীকে বলে দিয়েন, অস্ত্র হাতে আমার ছবি দেখলে উনি যেন রাগ না করেন।’
পরে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, আমরা তিনটি অভিযোগ এনেছি। অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ২১ জুলাই ও ৫ আগস্ট— এই তিন দিনে শিশু রিয়া গোপসহ ১০ জনকে হত্যা করা হয়। গুলি ও দেশীয় অস্ত্রে কুপিয়ে অসংখ্য ছাত্র-জনতাকে আহত করা হয়। এখানে শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। ফরমাল চার্জটি ট্রাইব্যুনাল দেখেছেন। এ ছাড়া আমাদের দাখিল করা তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে এসব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন। আগামী ২৬ জানুয়ারি তাদের গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের জন্য পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এই প্রসিকিউটর বলেন, এ ঘটনার অন্যতম প্রধান আসামি শামীম ওসমান। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে নিয়মিত মোবাইলে যোগাযোগ রাখতেন তিনি। যার কল রেকর্ড ও সিডিআর আমরা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি। তার একটি কথোপকথন আমরা ট্রাইব্যুনালে পড়ে শুনিয়েছি, যা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাইয়ের। অর্থাৎ ওইদিন ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে আন্দোলন দমন নিয়ে কথা বলেন শামীম ওসমান। তাদের কথোপকথন থেকে আমরা দেখিয়েছি, তিনি অস্ত্র ব্যবহার করে নারায়ণগঞ্জে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ শেষ করে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়েছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ শেষ করে খালি করেছেন চিটাগং রোড। নিজে বলেছেন যে ‘আমার হাতে অস্ত্রের ছবি দেখলে নেত্রী অর্থাৎ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন রাগ না করেন।’ আর এ অনুমোদন নিয়েছেন ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে। ফোনালাপের ফরেনসিক টেস্টও আমরা ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছি।
এদিন সকালে ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালে শুনানি করে প্রসিকিউশন।

নিজস্ব প্রতিবেদক