শেখ রেহানার ছেলে ও মেয়ের প্লট বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ
রাজউকের প্লট জালিয়াতির মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং মেয়ে আজমিনা হক সিদ্দিকের নামে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের দুই প্লটের বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন। এদিন দুই প্লট জালিয়াতির মামলায় রায় ঘোষণা করেন একই আদালতের বিচারক। রায় ঘোষণা শেষে তিনি প্লট বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ দিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।
এ বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর খান মো. মঈনুল হাসান লিপন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রায় থেকে জানা গেছে, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির প্লট দুর্নীতির অভিযোগে সাত বছর এবং আজমিনা হক সিদ্দিক রূপন্তীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া শেখ হাসিনার দুই মামলায় পাঁচ বছর করে মোট ১০ বছর এবং বোন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছর করে মোট চার বছর কারাদণ্ড হয়েছে।
নথি থেকে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এ মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আফনান জান্নাত কেয়া। মামলার বিচার চলাকালে ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
অন্যান্য আসামিরা হলেন—জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
গত ২৭ নভেম্বর প্লট জালিয়াতির তিন মামলায় শেখ হাসিনার সাত বছর করে ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া সাজীব ওয়াজেদ জয়কে এক মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত।
গত ১ ডিসেম্বর অপর এক মামলায় ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের দুই বছর, শেখ হাসিনার পাঁচ বছর, তার বোন শেখ রেহানার সাত বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
মামলা দুটিতে শেখ হাসিনা প্রধান আসামি। এ ছাড়া তার পরিবারের অন্য আসামিরা হলেন—টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক।
শেখ হাসিনার একটি মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। ওই মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও শেখ হাসিনাসহ মোট ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১০ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান ১৮ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় আদালতে ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
অপর মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এ মামলায় টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আফনান জান্নাত কেয়া। মামলার বিচার চলাকালে ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
আসামিরা হলেন—জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
বিচারক প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন এবং অনাদায়ে প্রত্যেককে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিচারক মামলার অন্য আসামিদের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত প্রতিবেদক