চলে গেলেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার
প্রখ্যাত বাউল শিল্পী ও যন্ত্রসংগীত সাধক সুনীল কর্মকার আর নেই। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
শিল্পী সুনীল কর্মকারের প্রয়াণে বাউল সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শিল্পী ও ভক্তদের মাঝে শোকের মাতম শুরু হয়। জনপ্রিয় বাউল শিল্পী মুক্তা সরকার সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লেখেন, “আহা সুনীল কাকা! কণ্ঠ শুনলেই বুঝতেন আমি আসছি। ‘মা’ বলে ডাকতেন। পালাগানের মঞ্চে কত স্মৃতি... ওপারে ভালো থাকবেন শ্রদ্ধেয় গুণী শিল্পী।”
জানা যায়, ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানার বার্ণাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। শৈশবেই টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি তার দৃষ্টিশক্তি হারান। কিন্তু চোখের আলো নিভলেও হৃদয়ের আলোয় তিনি জয় করেছিলেন সুরের বিশ্ব। তাঁর পিতা স্বর্গীয় দীনেশ কর্মকার এবং মাতা কমলা কর্মকার। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আশ্রয় শিবিরে তিনি তাঁর বাবা ও ছোট ভাইকে হারান।
কয়েকজন ভক্ত অনুরাগীরা বলেন, মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ তৈরি হয়। কিংবদন্তি গীতিকবি জালাল উদ্দিন খার গানের আসরে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। পরবর্তীতে তিনি বাউল গায়ক ইস্রাইল মিয়ার কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। গুরু তাকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন এবং সংগীতের তালিম দেন।
তাদের মতে, সুনীল কর্মকার কেবল কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, বরং এক বিস্ময়কর যন্ত্রশিল্পীও ছিলেন। তিনি একতারা, দোতারা, স্বরাজ, হারমোনিয়ামের পাশাপাশি খমক, খুঞ্জুরী, ঢোল ও ঢোলক বাজাতে সমভাবে পারদর্শী ছিলেন। তিনি লক্ষ্ণৌ ঘরানার মীর হোসেনের কাছে বেহালা এবং প্রতিবেশী গোবিন্দ কর্মকারের কাছে তবলার তালিম নেন।
ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইমতিয়াজ আহমেদ এনটিভিকে বলেন, জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুরারোপ করার পাশাপাশি সুনীল কর্মকার নিজে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি গান রচনা করেছেন। লোকসংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পদক লাভ করেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারত ও আমেরিকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বাংলা লোকগানকে তুলে ধরেছেন তিনি।

তানভীর হোসাইন, ময়মনসিংহ (সদর-মুক্তাগাছা)