মানুষের ভাগ্যের বাস্তব পরিবর্তনের জন্য হাতপাখায় ভোট দিতে হবে : চরমোনাইর পীর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশের মানুষের ভাগ্যের বাস্তব পরিবর্তনের জন্য হাতপাখায় ভোট দিতে হবে। তিনি বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো নতুন মোড়কে আবারও জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু এসব ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বরগুনার পাথরঘাটা কে এম মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বরগুনা-২ আসনে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাইর পীর এসব কথা বলেন।
মুফতি রেজাউল করীম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বয়স ৫৪ বছর হলেও স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য-সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। লাখ-লাখ মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার পর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের শাসনে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। বারবার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
রেজাউল করীম আরও বলেন, দেশের শ্রমিক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার ও প্রবাসীরা কষ্টার্জিত অর্থ ও রেমিট্যান্স দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করলেও ক্ষমতাসীনরা সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। তাই পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির ওপর আর আস্থা রাখা যাবে না। দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য হাতপাখায় আস্থা রাখতে হবে এবং হাতপাখার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।
চরমোনাইর পীর বলেন, ইসলামের পক্ষের বাক্স একটিই, তা হলো হাতপাখা। তিনি বলেন, কেউ সোনার বাংলা, কেউ সবুজ বাংলা, কেউ ডিজিটাল বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমরা বড় বড় স্বপ্নের কথা না বলে, এটুকু বলতে চাই—আমরা জনপ্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মুফতি রেজাউল করীম বলেন, চরমোনাই এলাকায় সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ নিরাপদে বসবাস করছেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর যখন দখল ও অরাজকতা দেখা দিয়েছিল, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারা দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় পাহারাদারি করেছে। হাতপাখা বিজয়ী হলে সংখ্যালঘুরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও অধিকার ভোগ করবেন।
সভাপতির বক্তব্যে বরগুনা-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী বলেন, তিনি শাসক নয়, জনগণের খাদেম হতে চান। জনগণের সহযোগিতা পেলে প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি প্রতিষ্ঠা, মামলাবাজির অবসান, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি রোধে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
মিজানুর রহমান কাসেমী আরও বলেন, বিজয়ী হলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ বিল উত্থাপন, উপকূলে জেলেদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, তিন বছরে এক লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিটি ইউনিয়নে কার্যকর গণশুনানি কেন্দ্র স্থাপন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং বন্যা ও নদী ভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহপ্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা কে এম শরীয়াতুল্লাহ, সহ-অর্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক নাসির উদ্দীন খান, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মামুনুর রশীদ খান ইউসুফী, বরগুনা-১ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, কেন্দ্রীয় নির্বাচন মনিটরিং টিমের সদস্য ও ইসলামিক স্কলার মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ, বরগুনা জেলার উপদেষ্টা মাওলানা ওমর আব্দুল কাদের পীর সাহেব বাওয়ালকর, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস শাকুরসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)