কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সামিয়া নিঝুম (২০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের হাউজিং ই-ব্লক এলাকার একটি বহুতল ভবনের চারতলার একটি রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সামিয়া নিঝুম পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছোট শালিখা এলাকার আব্দুস সালামের মেয়ে। তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মেডিকেল কলেজে পড়ালেখার সুবাধে ওই ভাড়া বাসায় এক রুম সাবলেট নিয়ে একাই থাকতেন সামিয়া।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওই ভবনের দেখভালের দায়িত্বে থাকা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, সামিয়ার বাবা রাতে আমাকে মুঠোফোনে জানান মেয়ে ফোন ধরছে না। এ সময় তিনি মেয়েকে রুম থেকে ডেকে দিতে বলেন। আমি পাশের রুমের এক মেয়েকে ডেকে নিয়ে সামিয়ার রুমে গিয়ে নক করে বলি তোমার বাবা ফোন দিচ্ছে। তখনও ওই মেয়ের বাবা ফোনের লাইনে ছিল। ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেলে সামিয়ার বাবা দরজা ভেঙে ফেলতে বলেন। তখন আমিসহ পাশের সাবলেটে থাকা মেয়েরা দরজা ভাঙার চেষ্টা করি। নিচের দরজায় হালকা ফাঁকা হয়ে গেলে দেখতে পাই সে গলায় দড়ি বাঁধা অবস্থায় জানালার সঙ্গে ঝুলছে। তখন ৯৯৯ ফোন করলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে।
সাবলেট থাকা মেডিকেল কলেজের আরেক ছাত্রী বলেন, সামিয়া আপু জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে আমার পাশের একরুম সাবলেট নিয়েছে। কারো সাথে কোন ঝামেলা আছে কিনা আমাদের জানা নেই।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন মাতুব্বর আরও বলেন, খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। আমি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আত্মহত্যা করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

সাবিনা ইয়াসমিন শ্যামলী, কুষ্টিয়া