গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশ : তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপনীত বাংলাদেশ। দেশের সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রাজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। কিন্তু পতিত পরাজিত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট চক্র জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্রের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল। কেড়ে নিয়েছিল জনগণের সব গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক অধিকার। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় হাজারো প্রাণের বিনিময়ে জনগণের কাছে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার এক মাহেন্দ্রক্ষণ আমাদের সামনে উপস্থিত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণতন্ত্রকামী জনগণের বহুল আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন।
তারেক রহমান বলেন, প্রিয় দেশবাসী, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার শুভ সময়ে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে আমি আপনাদের সামনে কয়েকটি কথা বলতে চাই। গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে এমন একটি শুভ সময় হঠাৎ করেই আসেনি। এর জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিসহ গণতন্ত্রের পক্ষের সব দল এবং গণতন্ত্রকামী জনগণকে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদ-বিরোধী এই ধারাবাহিক আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষকে গুম, খুন, অপহরণ করা হয়েছিল। আয়নাঘর নামের এক বর্বর বন্দিখানা যেন হয়ে উঠেছিল জ্যান্ত মানুষের কবরস্থান। শুধু ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ১৪ শতাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বিভিন্ন সময়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি জানাই, গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা। হতাহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।
তারেক রহমান আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর আধিপত্যবাদ ও তাঁবেদার অপশক্তিবিরোধী বাংলাদেশ, ’৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, শাপলা চত্বরের গণহত্যা কিংবা সর্বশেষ ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ—ইতিহাসের এমন প্রতিটি বাঁকে হাজারো, লাখো মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছেন। একটি প্রাণের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সম্ভাবনার আশা-আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু ঘটে। এ মানুষগুলো কেন এমন অকাতরে জীবন দিয়েছিলেন, কী ছিল তাদের চাওয়া, কোনো কিছু দিয়েই মৃত্যুর প্রতিদান হয় না। তাহলে কি এত প্রাণের বিসর্জন বৃথা হয়ে যাবে? না, অবশ্যই বৃথা যেতে দিতে পারি না। আমরা যারা এখনও আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছি, আমাদের উচিত সব শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দেশ এবং জনগণের জন্য উৎসর্গকৃত সব প্রাণের প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক