‘স্বাধীনতার পর এমন ভোট আর দেখিনি’
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের দীর্ঘ ১৮ মাসের প্রতীক্ষার পর অবশেষে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ভোটগ্রহণ। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে সারা দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
সকাল থেকেই প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী-ডেমরা এলাকার সিরাজুল হক ভূঁইয়া স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ৬০ ঊর্ধ্ব আব্দুল বাতেন নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘যদি এভাবে ভোট হয় তাহলে এ যাবৎকালের শ্রেষ্ঠ ভোট হবে। সত্য বলতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে এমন সুশৃঙ্খল ভোট আর দেখিনি।’
কেবল আব্দুল বাতেনই নন, ভোট দিতে আসা অন্যান্য সাধারণ মানুষের কণ্ঠেও ছিল সন্তুষ্টির সুর। কেন্দ্রে উপস্থিত এক বৃদ্ধ জানান, ‘ভোটের পরিবেশ খুবই সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। নিজের ভোট নিজে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।
ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। ইসির তথ্যমতে, ৯ লাখের বেশি নিরাপত্তা সদস্য এবং আট লাখ নির্বাচনি কর্মকর্তা এবারের বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া ৩৫ হাজার দেশীয় ও সাড়ে ৩০০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, যেখানে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি এবং ২২৭ আসনে লড়ছে জামায়াতে ইসলামী।

নিজস্ব প্রতিবেদক