আঁধার চোখে গণতন্ত্রের আলো, ভোট দিলেন ৮০ বছরের জন্মান্ধ ভিক্ষুক
জন্ম থেকেই দুই চোখে পৃথিবীর আলো দেখেন না, জীবন কাটে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে। তবুও বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীরের ক্লান্তি ছাপিয়ে ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন ৮০ বছরের প্রবীণ শাহজাহান।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার আড়াইবাড়ী কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে স্বজনদের সহায়তায় নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। জীবনসায়াহ্নে এসেও তার এই রাজনৈতিক সচেতনতা ও ভোটের প্রতি টান মুগ্ধ করেছে উপস্থিত অন্যান্য ভোটার ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের।
শাহজাহান কসবা উপজেলার বিশারাবাড়ি গ্রামের মৃত তবদীল হোসেনের ছেলে। আজ দুপুরে আড়াইবাড়ী ভোটকেন্দ্রে আসার পর পোলিং অফিসাররা তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভোটদানে সহায়তা করেন। বুথ থেকে বেরিয়ে আসার সময় তার মুখে ছিল এক চিলতে তৃপ্তির হাসি। জন্মান্ধ হয়েও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে তার এমন দৃঢ় প্রত্যয় দেখে অনেকেই তাকে উৎসাহ দিতে এগিয়ে আসেন।
ভোট দেওয়া শেষে শাহজাহান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি জন্ম থেইক্যাই চোখে দেখি না। দুনিয়ার আলো না দেখলেও দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমারও হক আছে ভোট দেওয়ার। ভোট দিয়া খুব শান্তি পাইতাছি। মনে হইতাছে নাগরিক দায়িত্বটা পালন করতে পারছি।’ ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও দেশের প্রতি তার এই মমত্ববোধ সবার নজর কেড়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৮৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট ৩ লাখ ৬ হাজার ৪৫৯ জন ভোটারের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রবীণদের সহায়তায় বিশেষ ডেস্ক ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শাহজাহানের মতো এমন প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ভোটদানে উৎসাহী করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব কারিগরি ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সাইদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (আখাউড়া-কসবা)