গোমতীর চরের মাটি লুট বন্ধে কৃষিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ
রাতের আঁধারে গোমতী নদীর চরের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এতে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শহর রক্ষা বাঁধও। কৃষিমন্ত্রী হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে চরের মাটি কাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা সার্কিট হাউজে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিন গোমতী নদীর চরে গিয়ে দেখা যায়, টিক্কার ব্রিজ, শাওয়ালপুর, গোলাবাড়ি, সামারচর, রত্নাবতী বানাশুয়া, পালপাড়াসহ শতাধিক স্থানে চরের মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ দলীয় ও প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার করে চরের মাটি কাটা হচ্ছে। প্রতি ট্রাক মাটি ৯০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মাটি যাচ্ছে জলাশয় ভরাটে ও ইটভাটায়।
আদর্শ সদর উপজেলার সামারচর এলাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চরের অনেক জায়গা ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের নাকের ডগায় গোমতী নদী শেষ করে ফেলা হচ্ছে।
সামারচর এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, অবস্থা এমন হয়েছে যেন গোমতীর কোনো অভিভাবক নেই। এভাবে চলতে থাকলে একদিন গোমতী নদীই হারিয়ে যাবে।
শরিফ হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যা হলেই চরে ট্রাক নামে, ভোর হলে মাটি কাটা বন্ধ হয়। রাতভর মাটি কাটার শব্দে ঘুমানো যায় না।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরর উপপরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, গোমতীর চরে প্রায় ৫৯ হাজার কৃষক সবজি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এখানকার সবজি জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। চরের মাটি কাটায় সবজি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, রোববার রাত থেকে দুজন ম্যাজিস্ট্রেট গোমতী নদীর চরে অভিযান পরিচালনা করছেন। মাটি কাটা দুর্বৃত্তদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে কঠোর অভিযান চলছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা