অভয়ারণ্য ও পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠছে ‘ঝোপখালী পাখির চর’
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় বিষখালী নদীর মোহনায় জেগে ওঠা ‘ঝোপখালী পাখির চর’ দক্ষিণ উপকূলের এক নতুন বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সবুজের সমারোহ, পাখির কলতান আর জীববৈচিত্র্যে ঠাসা এই চরটি আগামী দিনের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর সমন্বয়ে এখানে এক অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠেছে। চরের বুক চিরে বয়ে গেছে ৫-৭টি নালা, যেখানে পাওয়া যায় নানা প্রজাতির সুস্বাদু মাছ। জোয়ারের সময় যখন চরটি পানিতে পূর্ণ হয়, তখন নৌকায় করে বনের সবুজ আর পাখির ওড়াউড়ি উপভোগ করা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। পরিবেশকর্মীদের মতে, এখানে বালিহাঁস, বক, মদনটাকসহ অসংখ্য দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির আনাগোনা রয়েছে।
চরের এই নান্দনিক সৌন্দর্য ইতোমধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব খন্দকার নাজমুল হুদা শামিম এবং একাধিক জেলা প্রশাসক এই চরটি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে যুগ্ম সচিব এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানে নামকরণের ফলক উন্মোচন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি নজরদারি ও সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি হবে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সেরা ভ্রমণ কেন্দ্র। তবে পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি পাখিদের বংশবৃদ্ধির জন্য গাছে কৃত্রিম বক্স তৈরির পরামর্শ দেন।
এদিকে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের জেলা সমন্বয়কারী হাসানুর রহমান এই স্পটটিকে সবার কাছে উন্মোচিত করতে জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহা. সাদ্দাম হোসেন জানান, পাখিদের যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, তাই চরের মূল অংশে স্থাপনা না করে কিছুটা দূরে পর্যটকদের বসার জন্য বেঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। আসন্ন ঈদের আগেই এই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।
বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঝোপখালী পাখির চর’কে অভয় আশ্রম করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলায় একটি পর্যটন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা আছে পাখির চরকে অভয় আশ্রম করার।
বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘ঝোপখালী পাখির চর’কে অভয়াশ্রম ও আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট গড়তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)