দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘বউবাজারে’ ঈদের আমেজ
পবিত্র রমজানের দ্বিতীয় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘বউবাজারে’ বইছে উৎসবের আমেজ। সকাল ৭টা বাজতেই নারী ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এই বিশেষ বাজার। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বিকেল পর্যন্ত চলে কেনাকাটার ধুম।
শহরের বাসুনিয়াপট্টি, মাহদহপট্টি, চুরিপট্টি ও গরুহাটি- এই চারটি সড়কের দুই ধারে প্রতি শুক্রবার বসে এই বউবাজার। এই বাজারের সবচেয়ে মজার দিক হলো, এখানকার বিক্রেতারা মূলত বিভিন্ন স্থায়ী দোকানের কর্মচারী। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তারা বাড়তি আয়ের আশায় নিজেরাই এই অস্থায়ী দোকানগুলো পরিচালনা করেন। কোনো দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল বা খাজনা দিতে হয় না বলে এখানে উন্নত মানের কাপড় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।
এবারের বাজারে নারী বিক্রেতাদের সংখ্যাও চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। কাটা কাপড়, থ্রি-পিস, ওয়ান-পিস, টু-পিস থেকে শুরু করে শাড়ি, লুঙ্গি, জুতো ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সচ্ছল পরিবারের নারীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে এখান থেকে কেনাকাটা করছেন।
ডাবগাছ মসজিদ এলাকা থেকে আসা ক্রেতা চম্পা বলেন, এখানে কম দামে ভালো মানের সব ধরনের কাপড় পাওয়া যায়। শুধু কম আয়ের মানুষই নন, স্বচ্ছল পরিবারগুলোর নারীরাও এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। বাজারে পুরুষ বিক্রেতা থাকলেও ক্রেতা হিসেবে কোনো পুরুষ দেখা যায় না- এতে নারীরা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন।
দোকানদার শওকত আলী জানান, তিনি বউবাজার শুরুর দিন থেকেই এখানে দোকান করেন। সাধারণ সময়ের তুলনায় রমজানে বেচাকেনা অনেক বেশি হয়। শুধু কাপড় নয়, জুতো, স্যান্ডেলসহ নানা পণ্যও এখানে পাওয়া যায়।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, প্রতি শুক্রবার নিয়মিতভাবে বউবাজার বসে। বাজার চলাকালীন আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি, যাতে কেউ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন। যেহেতু এ বাজারে বেশিরভাগ ক্রেতাই নারী, তাই নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।
দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তমালিকা পাল জানান, প্রতি শুক্রবার এই বউবাজার বসে। স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় কাপড় কেনার সুযোগ পাচ্ছেন নারীরা। এসব কাপড় কিনেই তারা আসন্ন ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিবে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)