নরসিংদীতে কিশোরী হত্যা : প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৭
নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে নূরাকে ও ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে নিহতের মায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-ফারুক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। এজাহারভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে সরাসরি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ৪ জন এবং এই অপরাধে সহায়তাকারী ৩ জনসহ মোট ৭ জনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী নূর মোহাম্মদ নূরা নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারের সময় সে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা যায়, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র কিশোরী আমিনার বাবার কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার বিকেলে মহিষাশুরা ইউনিয়নের স্থানীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গতকাল গ্রেপ্তার হওয়া ৫ আসামিকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। যার শুনানি রোববার (১ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আজ দুপুরে প্রধান আসামি নূরা ও হযরত আলীকেও আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
এদিকে, এই জঘন্য ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মহিষাশুরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, বাকি দুই পলাতক আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিশ্বজিৎ সাহা, নরসিংদী