মশার অসহনীয় উৎপাত, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার আতঙ্কে নগরবাসী
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাসা-বাড়ি, দোকানপাট এমনকি মসজিদেও স্বস্তিতে থাকা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় জনমনে বাড়ছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার আতঙ্ক।
নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কোনো মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না। নালা-নর্দমায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় সেসব স্থান মশার প্রজনন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এমনকি নগরীর ‘ফুসফুস’ খ্যাত ধর্মসাগর দীঘির পাড়েও মশার যন্ত্রণায় বসা দায় হয়ে পড়েছে।
ব্যাংকার ইনজামামুল হক সৈকত বলেন, সারা দিনের ক্লান্তি শেষে একটু প্রশান্তির জন্য ধর্মসাগর পাড়ে আসি, কিন্তু গত এক মাস ধরে মশার অত্যাচারে এখানে পাঁচ মিনিটও বসা সম্ভব হচ্ছে না।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মশার বিস্তার এভাবে অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। গত বছরের তুলনায় এবার মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তা বলেন, ফগার মেশিনে কার্যকর কীটনাশকের পরিবর্তে মূলত কেরোসিন স্প্রে করা হচ্ছে, যার ফলে মশা মরছে না।
মশা নিধন কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মামুন। তিনি বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্প্রে কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তবে লোকবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
স্প্রেতে নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে মো. মামুন বলেন, বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা