গোমতী নদীতে মাছ ধরতে পলো উৎসব
কুমিল্লার গোমতী নদীতে মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী তিন দিনব্যাপী পলো উৎসব গত সোমবার দুপুরে শুরু হওয়া এ উৎসব চলে আজ বুধবার (২৫ মার্চ) পর্যন্ত। তবে এর পরও স্থানীয় উদ্যোগে মৎস্য শিকার অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।
আজ দুপুরে সরেজমিন গোমতী নদীর আদর্শ সদর উপজেলার টিক্কারচর ও চানপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন বয়সের সৌখিন মাছ শিকারি উৎসবে অংশ নিয়েছে। তারা পলো, ছিটাজাল, মই জালসহ নানা দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নেমে হাঁকডাক দিয়ে মাছ ধরে।
নদীর বিবিরবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কেউ পানিতে ডুব দিয়ে, আবার কেউ কনুই জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে। একজন বড় মাছ ধরতে পারলেই শিকারিদের উল্লাস ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোমতীর দুই পাড়। এ সময় হাজারো দর্শক নদীর তীরে ভিড় জমিয়ে উপভোগ করে এ উৎসব।
স্থানীয়রা জানায়, প্রতি বছরই তারা এ মাছ ধরার উৎসবের জন্য অপেক্ষা করে। নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে হাট-বাজারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত দিনে সবাই একত্রিত হয়ে উৎসবে অংশ নেয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলার রতন শিকদার বলেন, ‘আজ পলো দিয়ে দুটি বাগাইর মাছ পেয়েছি। তিন দিন ধরে এ উৎসব চলে। আমাদের একজন সর্দার আছেন, তিনিই দিনক্ষণ ঠিক করে সবাইকে জানান।’
নাঙ্গলকোট উপজেলার সিরাজ মিয়া ও কচুয়া উপজেলার প্রবাসী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে সবাই মিলে পলো দিয়ে মাছ ধরার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আজ প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অন্তত সাড়ে তিনশ মাছ শিকারি নদীতে নেমেছে। বোয়াল, রুই, কার্পসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় আট কেজি ওজনের বাগাইর মাছও পাওয়া গেছে।’
প্রবাসী ছিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, এটি আমাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য। সবাই মিলে মাছ ধরার মধ্যে আলাদা আনন্দ রয়েছে।
কুমিল্লার গবেষক ও লেখক আহসানুল কবীর বলেন, ‘গোমতী নদীতে মাছ ধরার এই উৎসব শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে। এক সময় এখানে বড় বোয়াল, বাগাইড়, চিতল, কালিবাউশ, রুই-কাতল প্রচুর পাওয়া যেত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে নদীর পানি ও মাছের সংখ্যা। গোমতী নদী খনন করা হলে আগের রূপ ফিরে পাবে এবং জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হবে।’

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা