রত্নগর্ভা বীর মুক্তিযোদ্ধা অপর্ণা রানী, লড়াই যার জীবনজুড়ে
নড়াইলের এক পরিচিত নাম অপর্ণা রানী বিশ্বাস। তিনি একাধারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, অন্যদিকে একজন সফল মা। বর্তমানে তিনি নড়াইল মেরি স্টোপস ক্লিনিকে প্যারামেডিক হিসেবে কাজ করছেন। আজ ৮ মার্চ, এই মহীয়সী নারীর জন্মদিন।
১৯৭১ সালে অপর্ণা রানী ছিলেন দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২৫ মার্চের কালরাত্রির ভয়াবহতার কথা শুনেই তার কিশোরী মন কেঁদে ওঠে। দেশমাতৃকাকে রক্ষার নেশায় তিনি ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাকে বুঝিয়ে বলেছিলেন, তোমার আট সন্তানের মধ্যে দুজন না থাকলে কিছু হবে না। এরপর তিনি পাড়ি জমান ভারতে। সেখানে গোবরা ক্যাম্পে সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে রাইফেল ট্রেনিং ও নার্সিং প্রশিক্ষণ নেন। পরবর্তীতে আগরতলা ক্যাম্পে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা করে সুস্থ করে তোলেন তিনি।
অপর্ণা রানী ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন। ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়ার পর এসএসসি ও এইচএসসিতেও প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তবে চরম দারিদ্র্যের কারণে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। সেই অপূর্ণতা তিনি ঘুচিয়েছেন নিজের সন্তানদের সুশিক্ষিত করে।
ব্যক্তিগত জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছেন তিনি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সন্তানদের আগলে রাখতে পৈত্তিক ভিটায় আশ্রয় নেন। অনেক কষ্ট করে তিন সন্তানকেই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তার বড় মেয়ে ডালিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে বর্তমানে ইউএনডিপিতে কর্মরত। বড় ছেলে পল্লব দাস এমবিএ করে একটি ব্যাংকে আছেন ও ছোট ছেলে পাভেল দাস বাগেরহাটে সহকারী তথ্য অফিসার হিসেবে কাজ করছেন।
সংসার চালাতে গিয়ে নিজের পৈতৃক জমিও হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে সরকারি ৫ শতক জমিতে ছোট একটি ঘরে তার বসবাস। কর্মজীবনে তিনি অগ্রণী ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘জয়িতা’, ‘রত্নগর্ভা’ ও ‘সফল জননী’র মতো অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন।

এম. মুনীর চৌধুরী, নড়াইল