দেওয়াল তুলে ২৫ পরিবারের যাতায়াতের রাস্তা বন্ধের অভিযোগ
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা গ্রামে শতবর্ষী সরকারি রাস্তা বন্ধ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই এলাকার মালো পাড়ার অন্তত ২৫টি সংখ্যালঘু জেলে পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পেতে মই বেয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে নারী ও শিশুদের।
স্থানীয়দের দাবি, লক্ষ্মীপাশা মৌজার ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত এই পথটি আর এস খতিয়ানেও সরকারি রাস্তা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। তবে সম্প্রতি এলাকার প্রভাবশালী দেদার-ই-এলাহী ও তার সহযোগীরা ওই জমিতে নতুন করে প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। এতে গ্রামের ভেতরের বসতবাড়ির সঙ্গে যাতায়াতের সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
অবরুদ্ধ ভ্যানচালক ধ্রুব বিশ্বাস বলেন, আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। পথ বন্ধ করায় ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছি না। আমাদের ২৫টি পরিবারের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা সংখ্যালঘু হওয়ায় আমাদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী স্বপ্না বিশ্বাস জানান, নারীরা কয়েকবার মই বেয়ে যাতায়াত করতে পারেন না। ছেলেমেয়েরাও স্কুলে যেতে পারছে না।
অভিযুক্ত দেদার-ই-এলাহী মোবাইল ফোনে জানান, ওই জায়গাটি তাদের কেনা সম্পত্তি যা ভুলবশত সরকারি তালিকায় গিয়েছিল। পরে ডিসি অফিস থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জেলেরা আগে যে পাশ দিয়ে যাতায়াত করত, সেই রাস্তা স্কুল মাঠ থেকে ১০ ফুট চওড়া আছে। আমরা মূলত বাড়ির নিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে পকেট গেটটি বন্ধ করেছি।
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী কায়সার বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দুই পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অফিসে ডাকা হয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগেও দুইবার এই রাস্তাটি বন্ধ করা হয়েছিল এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা খুলে দেওয়া হয়েছিল। এবার নতুন করে প্রাচীর নির্মাণ করায় এবং আদালতে মামলা চলাকালীন এমন পদক্ষেপে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এম. মুনীর চৌধুরী, নড়াইল