শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯.৯১ শতাংশ কারখানা : বিজিএমইএ
ঈদের আগেই শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানার মালিক। এছাড়া ঈদ বোনাস দেওয়া সম্পন্ন করেছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
আজ বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতি এসব কথা বলেন।
মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বর্তমান সময়টিতে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, এই তিনটি বড় চাপ একযোগে আমাদের শিল্পকে প্রভাবিত করছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমাদের রপ্তানি আয় তিন দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমেছে এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য এক দশমিক ৭৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বিশ্ববাণিজ্যে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে, যার প্রভাব আমাদের মতো রপ্তানিনির্ভর শিল্পের ওপর সরাসরি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জও কম নয়। গত ৫ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এখনও নিশ্চিত নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি।
ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগতভাবে তহবিল সংগ্রহ করে উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে জানিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী কিছু সংখ্যক কারখানায় বড় ধরনের আর্থিক সংকট ছিল। আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে মালিক, ব্যাংক এবং শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর সাথে সমন্বয় করে সেই কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করেছি।
আমাদের জানামতে বিজিএমইএ এর তালিকাভুক্ত এমন কোনো কারখানা নেই, যেখানে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন নিয়ে অমীমাংসিত কোনো সমস্যা রয়েছে। ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট দুটি কারখানার বেতন প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন করেছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট চারটি কারখানার ঈদ বোনাস প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম প্রদান করেছে। মহাসড়কে চাপ কমাতে এলাকাভিত্তিক ধাপে ধাপে ছুটি প্রদান করা হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কারখানায় ছুটি হয়েছে। আজ ও আগামীকালের মধ্যে বাকি কারখানাগুলো ছুটি প্রদান করবে।
নগদ সহায়তা ছাড় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের সময়োচিত হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান এবং দ্রুততম সময়ে ২৫০০ কোটি টাকার নগদ সহায়তা ছাড় করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো আমাদের উদ্যোক্তাদের তীব্র তারল্য সংকট লাঘবে এবং শিল্পের চাকা সচল রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য বিশেষ করে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রীকে। তার সুযোগ্য নেতৃত্বাধীন এই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৮-২০ দিনের মাথায় পোশাকশিল্পের বিদ্যমান সংকটগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সরকারের এই দূরদর্শী ও শিল্পবান্ধব পদক্ষেপের কারণেই আজ শিল্প এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে এবং শ্রমিক ভাই-বোনারা তাদের আইন সম্মত পাওনা বুঝে পাচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক