গ্রিস উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রাণহানি: শোকের ছায়া সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুরে
উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকাডুবিতে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ওই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৪ জন, জগন্নাথপুর উপজেলার ১ জন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জনের প্রাথমিক পরিচয় পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ‘ফ্রন্টেক্স’-এর একটি জাহাজ ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে ২৬ জনকে উদ্ধার করে। তবে সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ায় ২২ জন প্রাণ হারান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের তথ্যে নিহত কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন—দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০), আব্দুল গনীর ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৮), মৃত ক্বারী ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান (২৫) এবং রাজানগর ইউনিয়নের জাহানপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)। এছাড়া জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও এলাকার শায়েখ আহমদ জয় এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার অব্র ফাহিম নামের দুই যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
নিহতদের স্বজনরা জানান, স্থানীয় এক মানবপাচারকারী ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের গ্রিস পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। তিন দিন আগে তাদের সাথে শেষ যোগাযোগ হয়েছিল। প্রিয়জনের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকে দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজারের ওই পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন জানান, ‘সমুদ্রপথে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এদের মধ্যে তিন-চারজনের বাড়ি দিরাইয়ে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো দাপ্তরিকভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছি।’
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে।

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ