রাবার বোটে ছয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু
একটি রাবার বোটে টানা ছয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিস উপকূলে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ইউরোপে পৌঁছাতে মানুষ যে চরম ঝুঁকি নিচ্ছে, এই ঘটনাটি আবারও সেই দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। খবর আলজাজিরার।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের কথা এবং কোস্টগার্ডের বিবৃতির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ২২ জন অভিবাসী মারা গেছে এবং তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কোস্টগার্ড জানায়, দুই জন জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ক্রিট দ্বীপের হেরাক্লিয়ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেঁচে যাওয়াদের তথ্য অনুযায়ী, বোটটি গত ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর নগরী তোব্রুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়প্রার্থী অনেক অভিবাসীর জন্য প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
কোস্টগার্ড বলেছে, যাত্রা পথে যাত্রীরা দিক হারিয়ে ফেলেন এবং খাবার ও পানি ছাড়াই টানা ছয় দিন সমুদ্রে অবস্থান করতে বাধ্য হন। কোস্টগার্ডের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পাচারকারীদের একজনের নির্দেশে মৃত ব্যক্তিদের দেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রিক কর্তৃপক্ষ ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মানব পাচারকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, গ্রিক কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ক্রিট দ্বীপের উপকূল থেকে একজন নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংস্থা 'ফ্রন্টেক্স'-এর একটি জাহাজ উদ্ধার করেছে।
প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর এই বিপজ্জনক চেষ্টা করে। ২০১১ সালে লিবিয়ার দীর্ঘ দিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটি যুদ্ধ ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে ইউরোপে পাড়ি জমানো মানুষের অন্যতম ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে ১৬ হাজার ৭৭০ জনেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থী ক্রিট দ্বীপে পৌঁছেছেন। একই সময়ে গ্রিক জলসীমায় অন্তত ১০৭ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। অভিবাসীদের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে গ্রিস সরকার লিবিয়া থেকে আসা ব্যক্তিদের আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়া তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিল।
এতকিছুর পরেও অনেকে এই বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছিল, লিবিয়ার জুয়ারা শহরের উপকূলে ৫৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি রাবার বোট উল্টে যাওয়ায় দুই শিশুসহ প্রায় ৫৩ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। এছাড়া, জানুয়ারি মাসে আইওএম জানিয়েছিল, চরম আবহাওয়ার কারণে অন্তত ৩৭৫ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন, যদিও ধারণা করা হয় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক