ভূমধ্যসাগরে ২ মাসে ৬০৬ অভিবাসী নিহত : জাতিসংঘ
২০২৬ সালের শুরু থেকে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০৬ জন অভিবাসীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আইওএম-এর মতে, ২০১৪ সালে তারা যখন থেকে অভিবাসীদের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য রেকর্ড করা শুরু করেছে, তারপর থেকে গত এক দশকের মধ্যে ভূমধ্যসাগরে এটিই কোনো বছরের সব থেকে মারাত্মক অবস্থা।
আইওএম-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত শনিবার গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলে একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর কমপক্ষে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে জাহাজটি গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।
গ্রীক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ (তিনজন পুরুষ ও একজন নারী) উদ্ধার করা হয়েছে। সম্ভাব্য জীবিতদের সন্ধানে এখনো চারটি টহল নৌকা নিয়োজিত রয়েছে।
আইওএম আরও জানিয়েছে, ১৯ ফেব্রুয়ারি লিবিয়ার টোব্রুক থেকে প্রায় ১৭০ নটিক্যাল মাইল (৩১০ কিলোমিটার) দূর থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু ক্রিট দ্বীপের কালোই লিমেনেস বন্দর থেকে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে এটি ডুবে যায়। এর আগে শনিবার গ্রিক কর্তৃপক্ষ একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে নির্দেশ দিয়েছিল বিপদাপন্ন ওই জাহাজটিকে উদ্ধারের জন্য।
গত এক বছর ধরে লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উদ্দেশ্যে অভিবাসীদের একটি অবিরাম ও বিপজ্জনক প্রবাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মানব পাচারকারীদের শোষণের মুখে আইওএম নিচের বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছে :
আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
মধ্য ভূমধ্যসাগরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা।
জীবনের ঝুঁকি কমাতে ‘নিরাপদ ও নিয়মিত’ অভিবাসন পথ তৈরি করা।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক