মানিকগঞ্জে ইডিসিএল প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিও লেটার
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) প্রায় ১ হাজার ৯০৫ কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্প ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি ডিও লেটার (আধা-সরকারিপত্র)। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে প্রকল্পটি মানিকগঞ্জেই বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
প্রাপ্ত ডিও লেটারে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানিকগঞ্জ একটি নদীবহুল জেলা হওয়ায় পদ্মা, যমুনা, ধলেশ্বরী, কালিগঙ্গা ও ইছামতী নদীর ভাঙনে বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এই অবস্থায় জেলায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মানিকগঞ্জে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। রাজধানীর নিকটবর্তী হওয়া এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার যুক্তিতে তিনি প্রকল্পটি মানিকগঞ্জেই রাখার অনুরোধ জানান।
২০২২ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরোনো কারখানা স্থানান্তর করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের কথা ছিল। তবে ২০২৫ সাল থেকে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দেয়। এর মধ্যেই প্রকল্পটি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে স্থানান্তরের আলোচনা সামনে আসায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রকল্পের শুরু থেকেই জমি অধিগ্রহণ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও তার ঘনিষ্ঠদের জমির মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মূলত এসব আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে যায়।
করোনা পরবর্তী সময়ে ভ্যাকসিন উৎপাদন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই প্রকল্পের অবস্থান নিয়ে একাধিকবার পরিবর্তনের প্রস্তাব আসে। প্রথমে মানিকগঞ্জ পরে গোপালগঞ্জ এবং সর্বশেষ মুন্সীগঞ্জের নাম আসায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রীর এই ডিও লেটার প্রকল্পের স্থান নির্ধারণে নতুন করে প্রশাসনিক গুরুত্ব তৈরি করেছে। এটি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং অঞ্চলের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শেষ পর্যন্ত ইডিসিএলের এই বৃহৎ প্রকল্প মানিকগঞ্জ না মুন্সীগঞ্জে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও ডিও লেটারটি বিষয়টি পুনরায় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও গভীর সমন্বয় ও পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) জন্য ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় প্রয়োজনীয় জায়গা সংস্থান সম্ভব না হওয়ায় এটি ঢাকার বাইরে স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে মানিকগঞ্জকে উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আফরোজা খানম রিতা আরও বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি মানিকগঞ্জেই প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এর মাধ্যমে জেলার সর্বস্তরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ