পুঁজিবাজারকে প্রাণবন্ত করতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে : অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের পুঁজিবাজারকে উন্নত, প্রাণবন্ত ও গতিশীল করতে সরকারের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের পুঁজিবাজার শক্তিশালী উৎস হয়। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের (নোয়াখালী-৫) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সরকার পুঁজিবাজারকে শক্তিশালীসহ টেকসই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিরলসভাবে কাজ করছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে, সরকার তার নির্বাচনি ইশতেহারে এ খাতের উন্নয়নে নির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করেছে।
পুঁজিবাজারের উন্নয়ন বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত মন্তব্যে করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আর্থিক পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে একটি টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে ওঠে। তিনি জানান, পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে শক্তিশালী বন্ড বাজার গড়ে তোলা, মৌলভিত্তি শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা ও তালিকাবহির্ভূত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড, সুকুক, গ্রিন বন্ড চালু, মিউচুয়াল ফান্ডে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং কমোডিটি ও ফাইন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধ, তদন্ত ও প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার, বাজার আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন, দেশ-বিদেশ থেকে সহজে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি, হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা ও করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স এবং ১৯৯৩ সালের বিএসইসি আইন একীভূত করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ২০২৫-এর খসড়া পর্যালোচনাধীন রয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, অবণ্টিত লভ্যাংশ, আইপিও তহবিল ও অদাবিকৃত শেয়ার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনায় রয়েছে। হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা বিধিমালা, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রুলস ২০২৬ ও টেকসই বন্ড অন্তর্ভুক্ত করে ডেট সিকিউরিটিজ রুলস ২০২১ সংশোধন এবং অডিটর ও অডিট ফার্ম তালিকাভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে।
বিনিয়োগ সচেতনতা বাড়াতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দেশব্যাপী প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং জেলা তথ্য অফিসগুলো জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে। নিরাপদ বিনিয়োগ, সচেতন নাগরিক কর্মসূচির আওতায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশনে পুঁজিবাজারের জানা-অজানা শিরোনামে পাক্ষিক বিনিয়োগ শিক্ষা অনুষ্ঠান সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক