চার মাসে গ্রেপ্তার ৯১, তবুও থামেনি ছিনতাই-কিশোর গ্যাং দৌরাত্ম্য
কুমিল্লা নগরীতে চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গ্রেপ্তার হচ্ছে অপরাধীরা। গত চার মাসে শুধু কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৯১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।
আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে এত অভিযানের পরও নগরবাসীর প্রশ্ন—কেন থামছে না চুরি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য?
এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত চার মাসে গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীদের অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ জেল থেকে বসেই গ্যাং পরিচালনা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের ওপর নজরদারি থাকলেও রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের তদবিরের কারণে অনেক সময় আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। প্রভাবশালী আইনজীবীদের মাধ্যমে দ্রুত জামিন করিয়ে নেওয়ায় অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, কুমিল্লা নগরীতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে না তুললে এই অপরাধ কমানো কঠিন হবে।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মাসুক আলতাফ চৌধুরী মনে করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এসব কিশোর গ্যাং রাজনীতির অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। শুধু শহর নয়, এই সংস্কৃতি এখন গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। পারিবারিক অনুশাসনের অভাব ও মাদকের সহজলভ্যতার কারণে একটি প্রজন্ম এই অন্ধকার পথে পা বাড়াচ্ছে। রাষ্ট্র যতদিন এই সমস্যাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব না দেবে, ততদিন অপরাধীদের এই কর্মকাণ্ড থামানো সম্ভব নয়।
আলতাফ চৌধুরী বলেন, অনেকের আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে ছিনতাই। সম্মিলিত উদ্যোগ না নিলে এই গ্যাং সংস্কৃতি ভয়াবহ রূপ নেবে ও সমাজ দীর্ঘদিন এর নেতিবাচক প্রভাব বহন করবে।
বর্তমানে কুমিল্লা নগরীতে এক ডজনেরও বেশি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যাদের গ্রামাঞ্চলেও শাখা-উপশাখা রয়েছে। প্রতিটি গ্যাংয়ে গড়ে দুই থেকে তিনশ সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সময়ে শক্তি প্রদর্শনের মহড়া দিয়ে তারা নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন এনজিওর গবেষণা বলছে, নগরীর শাসনগাছা, ফৌজদারি, শুভপুর, ধর্মপুর, ছায়াবিতান, ঠাকুরপাড়া, বারপাড়া ও নুরপুরসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অপরাধীদের তৎপরতা বেশি। এসব এলাকায় পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষা ও জীবনমান উন্নত করা জরুরি।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় এই প্রবণতা কমছে না। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, সম্মিলিত উদ্যোগ ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা