অঢেল সম্পদের মালিক হয়েও আজ পথের মানুষ মজিবর
একসময় বিলাসী জীবনযাপন করতেন, ইংরেজিতে কথা বলতেন অনর্গল এবং ছিলেন অঢেল সম্পদের মালিক। তিনি হলেন রাজবাড়ীর বসন্তপুর এলাকার মজিবর রহমান খান। তিনি আজ নিঃস্ব, মানসিক ভারসাম্যহীন পথের মানুষ!
স্থানীয়দের ভাষ্য, যখন এলাকায় অনেকেরই সাইকেল ছিল না, তখন মজিবর সিডিআই মোটরসাইকেল চালিয়ে পদ্মা নদীতে গোসল করতে যেতেন। প্রতিদিন গোসলের সময় তিনি যে সাবান ব্যবহার করতেন তা ফেলে দিতেন নদীতে। যাত্রাপালা, আড্ডা কিংবা বিনোদন, সবখানেই তার উপস্থিতি ছিল। উদার হাতে খরচ করতেন, বিশেষ করে যাত্রার মঞ্চে নারী শিল্পীদের ওপর টাকা ছিটিয়ে দিতেন।
মজিবরের ভাতিজা সজিব খান বলেন, আমার চাচা মজিবর রহমান খান রাজকীয় জীবন কাটাতেন। তার বাবার মৃত্যুর পর নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপন তাকে ধীরে ধীরে নিঃস্ব করে দেয়। সময় ও সম্পদের অপব্যবহারের ফলে আজ তিনি সবকিছু হারিয়ে ফেলেছেন। বিলাসী জীবনের পাশাপাশি জুয়ায় আসক্তি ছিল তার। জুয়ার আসরে বসে জমিজমাও বাজি ধরতেন। বন্ধু-বান্ধবের পেছনেও তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেতেন। এরপর সম্পদ হারিয়ে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। ছয় মাস ধরে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। এখন একটু উন্নতি হয়েছে। কারও সঙ্গে ঝামেলা করেন না। আগে যার-তার সঙ্গে রেগে যেতেন। এখন আগের থেকে একটু ভালো আছেন আমার চাচা।
বর্তমানে মজিবর রহমান খান এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত। তিনি পথেঘাটে ঘুরে বেড়ান, ক্ষুধা লাগলে অন্যের কাছে খাবার চান এবং যেখানে রাত হয় সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের মতে, মজিবরের জীবন যেন একটি বাস্তব শিক্ষা। সময় ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করলে জীবন কীভাবে অন্ধকারে ডুবে যেতে পারে, তারই এক করুণ উদাহরণ এই মজিবর রহমান খান।

মো. কবির হোসেন, রাজবাড়ী