নিষেধাজ্ঞার ৫০ দিন পার হলেও মেলেনি সহায়তা
ইলিশ অভয়াশ্রমকেন্দ্র তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার ৫০ দিন পার হয়ে গেলেও মানবিক সহায়তার চাল পায়নি পটুয়াখালীর বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলেরা। চাল না পাওয়ায় মানবতের জীবনযাপন করছে কর্মহীন এসব জেলে।
অভিযোগ ওঠেছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও কয়েকজন ইউপি সদস্য জেলেদের বরাদ্দের চাল আত্মসাতের অপচেষ্টা করছেন। যে কারণে বরাদ্দের চাল বিতরণ না করে গড়িমিসি করছেন তারা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলিশ অভয়াশ্রমকেন্দ্র তেঁতুলিয়া নদীতে দুই মাসের (মার্চ-এপ্রিল) নিষেধাজ্ঞা চলছে। নিষেধাজ্ঞায় কর্মহীন জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের ছয় হাজার জেলের জন্য ৮০ কেজি করে ৪৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বরাদ্দের চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলেদের মধ্যে বিতরণ করার নির্দেশ দেয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ইতোমধ্যে আটটি ইউনিয়ন ছাড়া বাকি সব ইউনিয়ন ও পৌরসভার নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। শুধু চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়নি।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, ইউনিয়নের এক হাজার ৪৫৫ নিবন্ধিত জেলের অনুকূলে ১১৬ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতি জেলে মাসিক ৪০ কেজি করে দুই মাসে ৮০ কেজি করে চাল পাবেন। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও নিষেধাজ্ঞার ৫০ দিন পার হলেও জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ করেননি চন্দ্রদ্বীপ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল বশার মৃধা।
চন্দ্রদ্বীপ ইউপির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিবার বরাদ্দ পাওয়ার পর পরই চাল বিতরণ করা হয়। তবে এ বছর চেয়ারম্যান প্রতি জেলে নামে ১০ কেজি করে চাল কম দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দেন-দরবার করছেন। প্রশাসন ও কয়েকজন ইউপি সদস্যকে ম্যানেজ করতে না পারায় চাল বিতরণ করছেন না।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলেরা জানায়, নদীতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তারা মাছ ধরতে পারছে না। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। এ সময় সরকার যে সহায়তার চাল দেয় তা দিয়ে তাদের সংসার চলে। সেই চালও না দেওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা বিপাকে আছেন।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে মো. সোহেল বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরতে না পারায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে আছে। সরকারের দেওয়া চালও পাইনি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি।’
আরেক জেলে আনোয়ার মাঝি বলেন, সব ইউনিয়নে চাল দেওয়া শেষ। খালি আমাগো চেয়ারম্যান চাল দেয় না। চাল না দিলে আমরা খামু কী?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দ্রদ্বীপ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল বশার বলেন, আত্মসাতের জন্য চাল বিতরণ করছি না, এ কথা মিথ্যা। ট্রলার না পাওয়ায় গোডাউন থেকে চাল ছাড়িয়ে আনতে পারছি না। বুধবার চাল ছাড়িয়ে আনব, তারপর বিতরণ করব।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা সফল করার জন্য ফেব্রুয়ারি মাসেই চাল বিতরণ করার নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে কেন এখনও চাল বিতরণ করা হয়নি, তা খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আত্মসাৎ কিংবা মাপে কম দেওয়ার সুযোগ নেই। মৎস্যবিভাগের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে চাল বিতরণ করা হবে।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)