কুমিল্লা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ১০
কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কলেজ ক্যাম্পাসে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ‘গুপ্ত শিবির’ বলা নিয়ে বিকেলে শুরু হওয়া উত্তেজনা সন্ধ্যায় গিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেল ৪টার দিকে নাফিস আব্দুল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থীকে কয়েকজন ‘থাপ্পড়’ দিলে পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। এ ঘটনার বিচার দাবিতে সন্ধ্যায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষে যান। অধ্যক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তাৎক্ষণিক বিচার দাবিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তবে ঘটনার দায় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ। অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, গুপ্ত লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
কুমিল্লা পলিটেকনিক ছাত্রদলের সভাপতি ইমন আহমেদ বলেন, বিকেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আহমেদ বলেন, তাদের কর্মসূচি চলাকালে ছাত্রশিবিরের কর্মী নাফিস আব্দুল্লাহকে মারধর করা হয়। পরে বিচার চাইতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাজারুল ইসলাম বলেন, কোনো রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না; বিকেলের একটি থাপ্পড়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তবে তার আগেই সংঘর্ষ ঘটে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রাজ্জাক জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে, আহতদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা