কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড ৫ ইউনিয়ন, খোলা আকাশের নিচে শত পরিবার
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ৫টি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম। গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় শত পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
উপজেলার মহিমাগঞ্জ, শালমারা, শিবপুর, কোচাশহর ও রাখালবুরুজ ইউনিয়নের ওপর দিয়ে মূলত এই ঝড়টি বয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, বিকেলের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং প্রবল দমকা হাওয়ার সাথে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত শুরু হয়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যে বহু টিনের ঘরবাড়ি উড়ে যায় এবং বিশাল বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে। এতে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এলাকাগুলোতে। ঝড়ে মাঠের পাকা ও আধাপাকা ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মো. মজনু মিয়া বলেন, আমার এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অনেক দরিদ্র মানুষের ঘরবাড়ি সব শেষ হয়ে গেছে। রাতে তারা কোথায় থাকবে, সেই জায়গাটুকুও নেই। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন দ্রুত এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ান।
কোচাশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক জাহিদ জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করছেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, ঝড়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ সদস্যদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নজরদারি রাখতে এবং মানুষের পাশে থাকতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

খায়রুল বাসার, গাইবান্ধা (গোবিন্দগঞ্জ)