সেনা কর্মকর্তা মাসুদ ফের তিন দিনের রিমান্ডে
মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আবারও তিন দিন রিমান্ডে নিতে আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম এই আদেশ দেন। ঢাকার সিএমএম আদালতে আজ ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক( এসআই) কফিল উদ্দিন আসামিকে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তিনদিন রিমান্ডে নিতে আদেশ দেন।
এদিন দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে মাসুদ উদ্দিনকে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর রিমান্ডে নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘ঝুলিয়ে-পিটিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে দেওয়ার’ কারিগরদের একজন এই মাসুদ। এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা আসামি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এর আগে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গত ২৩ মার্চ অবসরপ্রাপ্ত লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ২৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানবপাচারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন এ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এরপরে ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ছয়দিন ও ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ৭ এপ্রিল জুলাই আন্দোলনকালে মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপরে ১১ এপ্রিল তার আরও চার দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাসুদ উদ্দিনকে ১২ এপ্রিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে এদিন তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দেশি অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এসময় আসামির নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। তাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ৬ জুলাই দেলোয়ারের স্ত্রী মিরপুর মডেল থানায় এ মামলাটি করেন।

আদালত প্রতিবেদক