টানা বৃষ্টিতে মহাসড়ক বেহাল, গর্তে আটকে যানবাহন
টানা ভারী বর্ষণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এখন এক চরম ভোগান্তির নাম। সংস্কারের অভাবে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি ও কাদা জমে সড়কটি বর্তমানে যানবাহন চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিশ্বরোড মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বিটুমিন উঠে গিয়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় চালকরা গর্তের গভীরতা বুঝতে পারছেন না, যা অনেকটা ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে একটি মালবাহী পিকআপ ভ্যান কাদা ও গর্তে আটকে পড়লে মহাসড়কের একপাশে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর পরপরই একই স্থানে আরও বেশ কিছু ছোট-বড় যানবাহন আটকা পড়ে। এতে মহাসড়কের দীর্ঘ অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
খবর পেয়ে বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ। বৃষ্টির কাদা উপেক্ষা করেই পুলিশ সদস্যরা আটকে পড়া যানবাহন উদ্ধারে সরাসরি মাঠে নামেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর যানবাহনগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হলে ধীরগতিতে যান চলাচল শুরু হয়।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের দেওয়ান জানান, সড়কের অবস্থা এমনিতেই নাজুক ছিল, তার ওপর টানা বৃষ্টিতে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে আটকা পড়া গাড়িগুলো উদ্ধার করেছি এবং যানজট নিরসনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বারবার অবহিত করার পর দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতায় ভারতের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড দ্রুত মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে সংস্কার কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ইট ও রাবিশ ফেলে গর্তগুলো ভরাট করা হলে রাতের দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। তবে স্থায়ী সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া