১০ বছরেও শেষ হয়নি ১০ কিলোমিটার সড়কের কাজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে বিজয়নগর উপজেলার নূরপুর পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের নির্মাণকাজ এক দশক পেরোলেও শেষ হয়নি। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া ‘নূরপুর জিসি-কালীবাড়ি আরএন্ডএইচ সড়ক’টি ২০১৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও এর পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি এলাকাবাসী।
বিশেষ করে বোয়ালিয়া খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ৩৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ডলি কন্সট্রাকশন ও ইনফ্রাটেক যৌথভাবে সড়কের কাজ শুরু করে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০১৮ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে কয়েক দফায় সময় বাড়িয়ে সর্বশেষ ২০২২ সাল পর্যন্ত নেওয়া হয়। তবে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্তও কাজ সম্পন্ন হয়নি।
মাঝপথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। পরে স্থানীয় অন্যান্য ঠিকাদার আংশিক কাজ সম্পন্ন করলেও পুরো প্রকল্প শেষ হয়নি। ২০২২ সালে সড়কটি আংশিকভাবে চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ, বিশেষ করে বোয়ালিয়া সেতু এখনো অসম্পূর্ণ।
বোয়ালিয়া খালের ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতুর নির্মাণকাজ ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হয়। ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের ধীরগতির কারণে সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পিলারের আংশিক কাজ শেষ হলেও পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ হয়নি। বৃষ্টিতে আশপাশের কাঁচা সড়ক কাদায় পরিণত হয়েছে, ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীদের অনেক সময় নেমে হেঁটে পার হতে হচ্ছে, আর যানবাহন ঠেলে পার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। পত্তন ইউনিয়নের বাসিন্দা সোলমান মিয়া বলেন, দুই বছর ধরে সেতুর কাজ পড়ে ছিল। এখনো ধীরগতিতে চলছে। ৯ কিলোমিটার রাস্তা বানাতে ১০ বছর লাগলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বেই।
অন্যদিকে স্থানীয়রা সড়কের লক্ষ্মীপুর থেকে নূরপুর অংশটি প্রশস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে বিজয়নগর উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরের যোগাযোগ সহজ হবে এবং সময় ও দূরত্ব কমবে।
ঠিকাদার খায়রুল হাসান দাবি করেন, শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ বিলম্ব হয়েছে। তবে বর্তমানে কাজ চলছে এবং কোরবানির ঈদের আগেই সেতুর কাজ শেষ করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীল বলেন, বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রকল্পে বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন কাজ এগোচ্ছে এবং আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সড়কটির সরকারি নাম ‘নূরপুর জিসি-কালীবাড়ি সড়ক’ হলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘সিমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক’ নামে পরিচিত।

শাহনেওয়াজ শাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সদর-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর)