আদালত এলাকায় আসামির ছবি তুলতে পুলিশের বাধা
মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে নারায়ণগঞ্জে আদালত এলাকায় আসামির ছবি তুলতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন সংবাদকর্মীরা। আজ রোববার (৩ মে) দুপুরে কোর্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা অভিযোগ করেছেন।
গণমাধ্যমের কর্মীরা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি ও নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলকে আদালতে তোলা হয়। কোর্ট কারাগার থেকে আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকরা তার ছবি তুলতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় কিছু পুলিশ সদস্য সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও দাবি করেন তারা।
একপর্যায়ে সিরাজ মণ্ডলের অনুসারীদের সঙ্গে সংবাদকর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, পুলিশের সঙ্গে সাংবাদিকদের কোনো তর্কাতর্কি হয়নি এবং ছবি তুলতেও বাধা দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, ‘সাংবাদিকদের সঙ্গে সিরাজ মণ্ডলের সমর্থকদের হাতাহাতি হয়েছে। তারা ছবি তুলতে গেলে সমর্থকরাই বাধা দেয়।’ তবে সংবাদকর্মীদের ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশ সংবাদকর্মীর হাত থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিচ্ছে।
এ ঘটনায় মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার মৃধা, যুবলীগনেতা রনি, সিরাজ মণ্ডলের শ্যালক কিবরিয়া ও রফিক রিপনের সঙ্গে জনবাণী পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি জহিরুল হকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক জহিরুল হক বলেন, ‘ছবি তোলার সময় প্রথমে পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। পরে তাদের দেখাদেখি আসামির সমর্থকরাও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। ফটোসাংবাদিক টিটুকে মারধর করা হয়।
গত ২৩ এপ্রিল সিরাজুল ইসলাম মণ্ডলকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

কামরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ (সদর-সোনারগাঁ-বন্দর)