ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে খোলা চিঠি
আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি দিয়েছেন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আজ সোমবার (৪ মে) হাসপাতালের সামনে এ মানবন্ধন ও পরে ইন্টার্ন হোস্টেলের এই খোলা চিঠি পাঠ করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলা হয়, ‘অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে বলতে হচ্ছে আমাদের ইন্টার্ন হোস্টেল বর্তমানে সামরিক ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য কোনো আবাসন ব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই। আমরা কার্যত বাসস্থানহীন অবস্থায় পড়েছি।’
এতে আরও বলা হয়, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা আবাসন সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করে আসছি। এই অবস্থায় আমাদের পেশাগত দায়িত্ব মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও নিরাপদ আবাসনের অভাবে আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি, যা সরাসরি রোগীসেবার মানকে প্রভাবিত করছে। একজন ক্লান্ত ও উদ্বিগ্ন ইন্টার্ন চিকিৎসকের পক্ষে সঠিক ও মনোযোগী চিকিৎসা প্রদান করা কতটা কঠিন তা অনুধাবন করা কঠিন। ফলে এই সংকট কেবল আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি হাসপাতালের সামগ্রিক সেবার মান ও রোগীর নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
গতকাল নতুন বর্ষের শিক্ষার্থীরা যোগদান করেছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, তাদের জন্যও কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ‘ইন্টার্ন হোস্টেল একটি অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত অবকাঠামো। একজন চিকিৎসকের জন্য নিরাপদ আবাসন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি দায়িত্ব পালনের অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এই ন্যূনতম প্রয়োজন থেকেও বঞ্চিত হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক’—বলেন তারা।
চিঠিতে ইন্টার্ন হোস্টেল থেকে সামরিক ক্যাম্পটি জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তর এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ ও মানসম্মত আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ একান্তভাবে কামনা করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এর আগে মানববন্ধনে চিকিৎসকরা বলেন, ইন্টার্নসহ সব শিক্ষার্থীদের জন্য তীব্র আবাসন সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যা আমাদের স্বাভাবিক ও নিরাপদ বসবাসকে ব্যাহত করছে। বিশেষ করে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিদারুণভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হোস্টেল হস্তান্তরের দাবিতে রোববার (৩ মে) থেকে আন্দোলনে নামে তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক