চাহিদার তুলনায় বেশি পশু, ন্যায্যমূল্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বরগুনার পাথরঘাটায় কোরবানির পশু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। তবে এ বছর জেলায় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু প্রস্তুত থাকায় এবং চোরাই পথে পশু আমদানির আশঙ্কায় ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদে পাথরঘাটায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ হাজার ৪৯৫টি। এর বিপরীতে খামারিরা প্রস্তুত করেছেন ৯ হাজার ৯৭৯টি পশু, যা চাহিদার তুলনায় ১ হাজার ১৫৯টি বেশি। প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে গরু ও মহিষ ৬ হাজার ১৬টি এবং ছাগল ও ভেড়া ৩ হাজার ৯৬৩টি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার ৮২টি পশু কম প্রস্তুত হয়েছে।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পশুখাদ্যের দাম ও ওষুধের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু লালন-পালনে ব্যয় অনেক বেড়েছে।
‘আমার স্বপ্ন গবাদি পশু খামার’র স্বত্বাধিকারী স্বর্ণা জানান, তার খামারে ৩৫টি গরুর মধ্যে ১২টি কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। গরু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। বাজারে ভালো দাম না পেলে আমাদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
অন্যতম খামারি বদিউজ্জামান সাহেদ বলেন, আমরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু লালন-পালন করি, ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করি না। কিন্তু বাজারে পশুর সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছি। যদি সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে গরু আসা বন্ধ থাকে, তবেই আমরা ন্যায্যমূল্য পাব।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ দাস জানান, এ বছর উপজেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং খামারিরা অনেক বেশি সচেতন। খামারিদের উৎসাহিত করতে আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, বাজারে পশু বিক্রি করে খামারিরা লাভবান হবেন।
প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নজরদারি এবং হাটে পশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকায় ক্রেতারা সুস্থ পশু পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।

মাহমুদুর রহমান, বরগুনা (পাথরঘাটা-তালতলী)