নজর কাড়ছে সাড়ে ২৭ মণের ‘টাইটানিক’
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড় আকৃতির গরু নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘টাইটানিক’ নামের বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়। প্রায় সাড়ে ২৭ মণ ওজনের এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিনই খামারে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ।
উপজেলার তারাব পৌরসভার মারিয়া এগ্রোতে গেলেই চোখে পড়ে বিশাল দেহের এই ষাঁড়টি। দূর থেকে দেখলে অনেকের কাছেই এটি ছোটখাটো পাহাড়ের মতো মনে হয়। সাদা ও লাল রঙের মিশ্রণে গড়া শক্তপোক্ত গঠনের গরুটি সহজেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
মারিয়া এগ্রোর স্বত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ফ্লেকভি জাতের এই ষাঁড়টির ওজন প্রায় এক টন বা সাড়ে ২৭ মণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গরুটি দেখতে আসছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি প্রচার করছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, টাইটানিকের জন্ম আমাদের মারিয়া এগ্রোর গাভী থেকে। আমরা পরিবারের সদস্যের মতো করেই তাকে বড় করেছি। কোনো ধরনের ইনজেকশন বা কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকরণ করা হয়নি। ঘাস, তুষ ও চালের গুঁড়া খাইয়ে প্রায় তিন বছর ধরে লালন-পালন করেছি।
শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, গরুটির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা খরচ হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে গরুটি দেখে গেছেন। ষাঁড়টির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ লাখ টাকা। উপযুক্ত দাম পেলে খামার থেকেই বিক্রি করবেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা বাইজিদ প্রধান বলেন, প্রতি বছরই মারিয়া এগ্রো বড় গরু পালন করে। তবে এবার ‘টাইটানিক’র আকার ও ওজনের কারণে এটি আলাদাভাবে সবার নজর কেড়েছে।
তারাব পৌরসভার বাসিন্দা সামির বলেন, গরুটি দেখতে গিয়েছিলাম। দূর থেকে দেখে মনে হয়েছে যেন একটি হাতি দাঁড়িয়ে আছে। সেলফি ও ভিডিও নিয়েছি বন্ধু ও আত্মীয়দের দেখানোর জন্য।
রূপগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস জানান, এবারের কোরবানির ঈদ উপলক্ষে উপজেলায় ১৮ হাজার ৪৯৫টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
ডা. সজল কুমার দাস আরও বলেন, ‘টাইটানিক’ ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনায় এসেছে। গরুটির মালিক যেন ন্যায্য মূল্য পান, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।

শাকিল আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ (রূপগঞ্জ)