কোটালীপাড়ায় শেষ হলো তিন দিনব্যাপী সুকান্ত মেলা
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘সুকান্ত মেলা’ শেষ হয়েছে। কবির পৈতৃক ভিটা উনশিয়া গ্রামে আয়োজিত এ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান আজ শুক্রবার (১৫ মে) অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৩ মে ১৪তম সুকান্ত মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
তিন দিনব্যাপী এই মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা বইয়ের প্রদর্শনী এবং গ্রামীণ লোকজ পণ্যের সমাহার। মেলায় দর্শনার্থীরা বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য কেনেন এবং নাগরদোলায় চড়েও আনন্দ উপভোগ করেন।
সমাপনী দিনে কবির জীবন ও কর্মের ওপর একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা তাঁর সাম্যবাদী ও মানবিক চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, ১৪তম সুকান্ত মেলা ২০২৬ আয়োজন উপলক্ষে কোটালীপাড়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কবি সুকান্ত ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা মানবতার কবি। কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে তাঁর পৈতৃক ভিটাকে কেন্দ্র করেই এই আয়োজন করা হয়েছে। এখানে সর্বস্তরের মানুষের সর্বোচ্চ উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ দেখা গেছে।
গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সংস্কৃতিকে সমাজে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। কবি, সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিকসহ প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এই আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং আগামী ১৫ আগস্ট কিশোর কবি সুকান্তের জন্মবার্ষিকীও আমরা জাঁকজমকভাবে পালন করতে চাই। কবির আদর্শ ধারণ করে সমাজ থেকে অনাচার ও অপকর্ম দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কবি সুকান্ত তাঁর লেখায় একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবীর কথা বলি, যেখানে শিশুরা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে অনেক জায়গায় সেই পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। অতীতের অভিজ্ঞতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে আমরা একটি সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলাম, যা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ক্ষণজন্মা কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৭ সালে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। মাত্র ২১ বছরের জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ছাড়পত্র’, ‘ঘুম নেই’, ‘পূর্বাভাস’, ‘মিঠে কড়া’ ও ‘অভিযান’। তাঁর কবিতাগুলো মূলত সাধারণ মানুষ, দারিদ্র্য, অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতিচ্ছবি।

মাসুদ পারভেজ, গোপালগঞ্জ