উপকূলের ডেঞ্জার জোনে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান বন্ধে বিআইডব্লিউটিএর প্রস্তুতি
জেলার মেঘনা নদীর ডেঞ্জার জোনের ইলিশা-লক্ষ্মীপুর রুটে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলা ট্রলার ও স্পিডবোটের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরুর প্রস্তুতি বিআইডব্লিউটিএর।
মেঘনা নদীর ইলিশা-লক্ষ্মীপুর রুটসহ বিভিন্ন নৌপথে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ-ট্রলারে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও অসাধুচক্রের দাপটে তা বার বার বিঘ্নিত হচ্ছে। এইরুটে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচলের কথা থাকলেও যাত্রী কমের অজুহাতে অনেক সময় তা বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা; আর এসব অবৈধ নৌযানের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
প্রতিবছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার ইলিশা মেঘনা নদী থেকে সাগর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ১১০ কিলোমিটার এলাকাকে ডেঞ্জার জোন ঘোষণা করেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।
এ সময়ে সি-সার্ভে ছাড়া অন্য কোনো নৌযানে যাত্রী পরিবহণ নিষিদ্ধ থাকলেও ভোলার ইলিশা-লক্ষ্মীপুর রুটসহ বিভিন্ন নৌপথে অবাধে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ও স্পিডবোট।
প্রতিদিন শত শত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে এসব অবৈধ নৌযান। আসন্ন ঈদুল আজহা মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধ এ নৌ-চলাচল ব্যবসা আরো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এসব নৌযানগুলোর অধিকাংশেরই নেই বৈধ কাগজপত্র বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন। নেই কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিংবা লাইফ জ্যাকেটসহ জীবন রক্ষাকারী কোনো সরঞ্জাম। তারপরও গাদাগাদি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই নদী পাড় হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
যাত্রীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা বাসসকে বলেন, নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ও সি-ট্রাক চলাচলের কথা থাকলেও যাত্রী কমের অজুহাতে অনেক সময় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়। ফলে জরুরি প্রয়োজন ও জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রলার ও স্পিডবোটে মেঘনা পাড়ি দিতে হচ্ছে।
সরেজমিন ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে গেলে সেখানে অপেক্ষমান লক্ষ্মীপুরগামী যাত্রী শরিফ, রহমান ও নাসিমা বেগমের সাথে কথা হয়।
তারা বাসসকে বলেন, বর্তমানে ইলিশা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ৪টি সি-ট্রাক ও দুটি লঞ্চ চলাচল করছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। অনেক সময় ঘাটে এসে নিরাপদ নৌযান না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ও স্পিডবোটে যাতায়াত করতে হচ্ছে আমাদের।
যাত্রীরা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই নিয়মিত নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত ও অবৈধ ট্রলার-স্পিডবোট বন্ধের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ভোলা নদী বন্দরের বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বাসসকে বলেন, প্রতিবছর ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলার ইলিশা মেঘনা নদী থেকে সাগর মোহনা পর্যন্ত প্রায় ১১০ কিলোমিটার ডেঞ্জার জোন এলাকায় নিষেধাজ্ঞাকালীন প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার এ মৌসুমেও আমরা ডেঞ্জার জোনে অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। অবৈধ নৌযানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, আসন্ন ঈদুল আজহায় ভোলা উপকূলের প্রতিটি নৌরুটে লঞ্চযাত্রা ঝুঁকিমুক্ত রাখতে পুলিশের বেশ কয়েকটি চৌকস টিম কাজ করছে। মেঘনা নদীর ডেঞ্জার জোনে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ নৌযানের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)