শাহ-আলীর মাজারে হামলা, তিন আসামি রিমান্ডে
রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ আলী (র.) এর মাজারে হামলার ঘটনায় তিন আসামির দুদিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (১৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ দেন।
ঢাকার সিএমএম আদালতে আজ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার পরিদর্শক তারিকুর রহমান আসামিদের হাজির করে তিন দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক(এসআই) গৌতম সরকার এনটিভি অনলাইনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন- রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলো– মো. আজম, শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল ও আরমান দেওয়ান।
নথি থেকে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলা হয়। ওরশ চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে মারধর শুরু করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক মাজারভক্ত নারী শনিবার (১৬ মে) মামলা দায়ের করেন। পরে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আলী থানার উত্তর বিশিল এলাকা থেকে ওই তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এজাহারে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে মাজার জিয়ারত ও মানতের সময় আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জিয়ারত ও মানতের কার্যক্রম চলাকালে অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জন জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ স্লোগান দিয়ে প্রধান গেট দিয়ে মাজারে প্রবেশ করে।
এজাহারে আরও আরও বলা হয়, এ সময় জিয়ারতকারী ও মানতকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে জখম করা হয়। মাজারের সিন্নি গাছের গোড়ায় থাকা লাল কাপড় টানা-হেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলা ও মোমবাতি জ্বালানোর প্লেটও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ঘটনা দেখে আসামিদের বাধা দিতে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করে। বাদীর কাপড়চোপড় টানা-হেঁচড়া করে যৌন নির্যাতনও করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মারপিটের এক পর্যায়ে অজ্ঞাত একজন মাজারের মানতের খিচুড়ি রান্না করার চুলা ও পাতিল ভাঙচুর করে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা ক্ষতি করে। একইসঙ্গে বাদীর কাছে থাকা নগদ ছয় হাজার টাকাসহ জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা লুট করে। হামলার এক পর্যায়ে মাজারের উপস্থিত জিয়ারতকারী, মানতকারী ও ভক্তরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে আসামিরা ভয়ভীতি-হুমকি প্রদর্শন করে চলে যায়।

আদালত প্রতিবেদক