রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) গভীর রাতে একের পর এক বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো।
আহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউক্রেনের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, রাজধানীতে ‘বৃহৎ ব্যালিস্টিক হামলা’ চালিয়েছে রাশিয়া। হামলার সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আবাসিক ভবন, শিক্ষার্থী হোস্টেল, শপিংমল ও গাড়ি সার্ভিস সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার রাতে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী সতর্ক করে জানায়, রাশিয়া ‘ওরেশনিক’ নামের মধ্যপাল্লার শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। পরে কিয়েভের সামরিক প্রশাসক তিমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে বলেন, রাজধানী বড় ধরনের ব্যালিস্টিক হামলার মুখে রয়েছে এবং সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানান।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, মার্কিন ও ইউরোপীয় গোয়েন্দা অংশীদারদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে যে রাশিয়া ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টও কিয়েভে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা দেয়।
এই হামলার আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী হামলার’ অভিযোগ এনে প্রতিশোধ নেওয়ার নির্দেশ দেন। রাশিয়ার দাবি, শুক্রবার ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোবিলস্ক শহরের একটি কলেজ ডরমিটরিতে ১৮ শিশু নিহত হয়েছে। তবে ইউক্রেন এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেই হামলা চালায়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার সামরিক স্থাপনায় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা রাশিয়ার ড্রোন প্রশিক্ষণ শিবির ও সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছে, যেখানে বহু রুশ সেনা হতাহত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বড় আকার ধারণ করলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ মোড় নিতে পারে।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক