কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কামারপাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও কুলিয়ারচরের কামারপাড়ায় বেড়েছে ব্যস্ততা। গরম লোহায় হাতুড়ির আঘাতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের স্ফুলিঙ্গ। তৈরি করছে ঝন ঝন দ্যোতনা। ঘামে নেয়ে উঠছে কমারের শরীর। ক্লান্তি-শ্রান্তি ভুলে কাজ নিয়ে ব্যস্ত তারা একটু বেশি টাকা রোজগারের আশায়।
সারা বছর কাজে মন্দা গেলেও কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ করে বেড়ে যায় তাদের তৈরি দা, বটি, চাকু-ছুরি, কুড়াল, তাসকাল, চাপাতির কদর ও চাহিদা। তাই বছরের আয়ের এই মৌসুমটাকে এতটুকুও ছেড়ে দিতে নারাজ এই লৌহশিল্পীরা। তাই এই বিরামহীন শ্রমের প্রতিযোগিতা।
জানা যায়, শহর কিংবা গ্রামীণ দৈনন্দিন সংসার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুসঙ্গ তৈরির সঙ্গে আবহমানকাল থেকে জড়িয়ে আছে কর্মকার সম্প্রদায়। এই অতিপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গগুলো হলো-দা, বটি, চাকু-ছুরি, কোদাল-খন্তি ইত্যাদি।
শিল্পায়নের যুগে নিত্য প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের পাশাপাশি কর্মকার শিল্পের তৈজসপত্রগুলোর অনেক জিনিস এখন দেশের কল-কারখানায় তৈরি হচ্ছে। আবার মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে আসছে ভারত, চীন, তাইওয়ানের মতো দেশ থেকেও।
সময়ের ব্যবধানে সুপ্রাচীন অনেক পেশার মতো এ শিল্পটাও কোনোভাবে টিকে আছে বলা যায়। তবে সারা বছর কাজ-কর্ম খুব একটা না থাকলেও এই কোরবানির ঈদকে উপলক্ষ করে তাদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায় কয়েকগুণ।
এই সময় কামারপাড়ায় ছুটে আসে লোকজন। কেউ বা আসেন নতুন করে কিছু তৈরি করতে। কেউ বা আসে পুরোনোগুলোকে ঝালিয়ে নিতে বা শান দিতে।
এই শিল্পের তৈজসপত্র তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হওয়া লোহা, কয়লা ইত্যাদির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া, মেশিনের তৈরি বিদেশি দ্রব্যে বাজার সয়লাব হয়ে পড়ায় বর্তমানে তাদের ব্যবসায় চরম মন্দা বিরাজ করছে বলে জানান এ শিল্পের শিল্পীরা।
এতসব সংকটের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকট হলো অর্থনৈতিক। মৌসুমে দুটো টাকা রোজগারের আশায় বিভিন্ন এনজিও থেকে উচ্চ সুদে পূঁজি এনে সেগুলো পরিশোধেই তাদের সব মুনাফা চলে যায়। ফলে সংসার চালাতে আবারও নতুন ঋণ নিতে হয়। এই চক্রে শুধুই তাদের ঋণের ভার শক্ত হয়, নরম হয় পায়ের তলার মাটি।
কামারদের দাবি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় সহজ শর্তে মৌসুমী ঋণের ব্যবস্থা থাকলে তারা খুব উপকৃত হতো। মৌসুম শেষে সরকারি ঋণ শোধ করে দিত কাজ করে অর্জন করা লাভ থেকে।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব