ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ কাণ্ডে এবার চিড়িয়াখানার কিউরেটর বরখাস্ত
জাতীয় চিড়িয়াখানায় আলোচিত অ্যালবিনো মহিষটির নাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখার কারণে কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পেশাগত অসাদচরণের কারণে ডা. মো. আতিকুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
তবে চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে একটি মহিষের নাম সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বহাল রাখা এবং সেই নামও ভুলভাবে উপস্থাপন করাকে প্রশাসনিকভাবে বিব্রতকর ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত যাওয়ার পর কিউরেটরকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে অ্যালবিনো মহিষটি। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের গোলাপি-সাদা রঙের মহিষটির মাথার সামনের সোনালি চুল এবং কিছু শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম অনুসারে এর নাম রাখেন।
কোরবানির পশুর হাটে মহিষটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরে দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য ইনডিপেনডেন্ট, এএফপি ও রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর মহিষটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
ক্রেতাকে অর্থ পরিশোধ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়।
কিন্তু চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের সময় নতুন বিতর্কের জন্ম হয়। মহিষটির পরিচিতি ফলকে নাম লেখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’। ‘ট্রাম্প’-এর পরিবর্তে ‘ট্টাম্প’লেখার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা ও বিদ্রুপ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ফলকটি পরিবর্তন করে। পরে মহিষটির নামও পরিবর্তন করে ‘সাদা মহিষ’ রাখা হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, একটি প্রাণির নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখার বিষয়টি শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। যে কারণে মহিষটি কোরবানি দেওয়া হয়নি, পরে সেই একই নামে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করাও প্রশ্নের জন্ম দেয়। তার ওপর নামের বানান ভুল করে পরিস্থিতি আরো বিব্রতকর করা হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, শুধু বানান ভুল নয়, পুরো বিষয়টি মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একজন রাষ্ট্রনেতার নামে প্রাণীর নাম প্রদর্শন এবং পরে সেই নামও ভুল লেখা মোটেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। দুটি বিষয়ই বদলির সিদ্ধান্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক