দেশ-বিদেশে কেয়ার গিভারের চাহিদা, দক্ষ জনবল তৈরির ওপর জোর
মানবিক বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণ ও বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে ‘কেয়ার গিভার’ পেশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রশিক্ষিত কেয়ার গিভার তৈরি হলে আর অবহেলায় পড়ে থাকবেন না প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ মানুষ। সেবার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর মতো করুণ বাস্তবতারও অবসান ঘটাতে পারে এই সম্মানজনক পেশা।
গতকাল বুধবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গ্রামীণ বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে কমিউনিটির অংশগ্রহণে সহায়তা প্রদান জোরদারকরণ’ শীর্ষক প্রায়োগিক গবেষণা প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিআরপির (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়ক ভ্যালেরি এ. টেইলর। বার্ডের মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর কুমিল্লার উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম পাটোয়ারী, ময়নামতি মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. কবীর হোসেন এবং প্রকল্প পরিচালক ড. শেখ মাসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কোর্স পরিচালক ও বার্ডের যুগ্ম পরিচালক কাজী সোনিয়া রহমান।
বক্তারা বলেন, দেশে ও বিদেশে কেয়ার গিভারের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও প্রশিক্ষণের সুযোগ এখনও অত্যন্ত সীমিত। এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থদের সেবার মান বাড়বে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক আয়ের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। সেবা মনোভাব, ধৈর্য ও মানবিকতাই এ পেশার সবচেয়ে বড় শক্তি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভ্যালেরি এ. টেইলর বলেন, বাংলাদেশ একটি সুন্দর দেশ, এ দেশের মানুষও অসাধারণ। অনেকে মনে করেন আমি অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, কিন্তু আমি তা মনে করি না। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।
তিনি কুমিল্লার দুস্থ ও অসহায় মানুষের কল্যাণে এমন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বার্ড কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং সিআরপির সেবামূলক কার্যক্রম সারা দেশে আরও বিস্তৃত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বার্ডের মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বার্ড শুধু গবেষণাই নয়, প্রায়োগিক গবেষণার মাধ্যমেও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০২২ সাল থেকে সীমিত পরিসরে কেয়ার গিভার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেয়ার গিভার পেশায় সেবার পাশাপাশি বৈদেশিক আয়েরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা