হোলি আর্টিজানের শহীদ এসি রবিউল করিমের ১০ম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত
একটি রাত, যা চিরতরে বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ইতিহাস। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার সেই বিভীষিকাময় রাতে জীবন বাজি রেখে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) রবিউল করিম। দেশ ও মানুষের নিরাপত্তায় তার এই মহান আত্মত্যাগ আজও জাতির কাছে সাহস, কর্তব্যবোধ ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল প্রতীক। আজ বুধবার (১ জুলাই) সেই অকুতোভয় বীর সন্তানের দশম শাহাদাতবার্ষিকী তার নিজ জেলা মানিকগঞ্জে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগঘন পরিবেশে পালিত হয়েছে।
শহীদ রবিউল করিমের স্মরণে তার নিজ গ্রাম কাটিগ্রামে দিনভর নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় শহীদ রবিউল করিমেরই প্রতিষ্ঠিত ‘নজরুল বিদ্যাসাঁড়ি স্কুল’ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি কাটিগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্থানীয় কাটিগ্রাম কবরস্থানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বীর এই পুলিশ কর্মকর্তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁর পরিবার, জেলা পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে শহীদ রবিউল করিমের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ব্লুমস বিশেষায়িত বিদ্যালয়’ প্রাঙ্গণে এক আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জি. আর. শওকত আলীর সভাপতিত্বে সভায় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম, জেলা ড্যাবের সভাপতি জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন, বিদ্যালয়ের সদস্যসচিব ও শহীদ রবিউল করিমের ছোট ভাই শামসুজ্জামান শামস এবং তাঁর সহধর্মিণী উম্মে সালমা।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, শহীদ রবিউল করিম শুধু একজন অত্যন্ত দক্ষ ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মানবিক, দূরদর্শী এবং সমাজ গঠনের একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। জীবদ্দশায় শিক্ষা বিস্তার ও মানবকল্যাণে তার নেওয়া নানামুখী সামাজিক উদ্যোগ আজও স্থানীয় মানুষের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নতুন প্রজন্মকে আলোকিত করার কাজ নিরলসভাবে করে যাচ্ছে। স্মরণসভা শেষে শহীদ রবিউল করিমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং তাঁর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
১০টি বছর পেরিয়ে গেলেও হোলি আর্টিজানের সেই রক্তাক্ত ও বেদনাবিধুর রাতের স্মৃতি আজও বাংলাদেশের মানুষকে গভীরভাবে শোকাহত ও নাড়া দেয়। আর শহীদ এসি রবিউল করিমের এই আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে বারবার মনে করিয়ে দেয়—দেশ ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য কিছু মানুষ নিজের জীবনকেও তুচ্ছ করে ইতিহাসের পাতায় চিরকালের জন্য অমর হয়ে থাকেন।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ